ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে সোফায় বসে স্ত্রী, পুত্রবধূকে নিয়ে গুনে গুনে পেছনে জমা করছিলেন গ্রাহক। পাশে বসা চোর কৌশলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়লো। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংক শাখায়। টাকার হিসাব মেলাতে না পেরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন ও তার পরিবার। টাকা চুরির পর ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই নিশ্চিত হলেন কীভাবে তার টাকা চুরি হয়েছে। সবাই যখন টাকা গোনায় ব্যস্ত এবং টাকার বান্ডিলগুলো পেছনে জমা করছিলেন, তখন চোর কৌশলে পেছন থেকে এক লাখ টাকার ৪টি বান্ডিল নিয়ে সটকে পড়ে। গ্রাহক জাকির হোসেন জানান, তার বাড়ি দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ি। তার পিতা মৃত সিরাজুল ইসলাম।
পেশায় তিনি ইলেক্ট্রেশিয়ান। তিনি আরও জানান, পারিবারিক প্রয়োজনে পূবালী ব্যাংক দেবিদ্বার শাখা থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক তাকে সবগুলো এক লাখ টাকার বান্ডিল না দিয়ে এক হাজার টাকা নোটের ৫টি, ৫ শত টাকার ২ এবং একশত টাকার ১০টি বান্ডিল দেয়। তখন গ্রাহক আপত্তি জানালেও ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেন, টাকাগুলো গুনে নিন। ছেঁড়া টাকা আছে কিনা দেখে নিন। তখন ব্যাংকের ভেতরে সোফায় বসে জাকির, তার পুত্রবধূ পলি আক্তার এবং তার স্ত্রী আয়শা আক্তার টাকা গুনছিলেন।
প্রথমে এক হাজার টাকার ৪টি বান্ডিল ৪ লাখ টাকা গুনে পেছনে রাখেন পরে সবাই বাকি টাকা গুনছিলেন। টাকা গোনা শেষে ৭ লাখ টাকার হিসাব না মেলাতে পেরে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন। ওই ঘটনায় রাতেই জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ ব্যাপারে পূবালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধুরী জানান, একজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে গণনায় ব্যস্ত ছিলেন। টাকা গুনে পেছনে রাখছেন অথচ ডান-বামে লক্ষ্য করছেন না। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য কৌশলে টাকা নিয়ে চলে গেল। এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।
