বন্দরে কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কন্টেইনার উধাও

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ভর্তি একটি ৪০ ফুটের কন্টেইনার গায়েবের অভিযোগ উঠেছে। কন্টেইনারটিতে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার জন্য আমদানি করা ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স ছিল। সোমবার ঘটনাটি জানাজানি হলে বন্দর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কন্টেইনারটি সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে আমদানি করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ই আগস্ট ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজে করে কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে আসে। পরে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট ২২শে আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কাস্টমস ও বন্দরের প্রয়োজনীয় রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধের পর গত ৩০শে আগস্ট কন্টেইনারটি খালাসের জন্য বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে যান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ কন্টেইনারটির ‘কিপ ডাউন’ বা অবস্থান শনাক্ত করে ডেলিভারি দিতে পারেনি। এরপর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি ৩০শে আগস্ট থেকে ২রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন স্থানে কন্টেইনারটির সন্ধান করে। বিষয়টি টার্মিনাল ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট টার্মিনাল অফিসার (এটিও) ও টার্মিনাল অফিসারকে জানানো হলেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি।

পরে গত ২রা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের চার্জ পরিশোধের পর কন্টেইনারটি ডেলিভারি নিতে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কন্টেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, কন্টেইনারে থাকা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কাঁচামাল। নির্ধারিত সময়ে এসব পণ্য না পাওয়ায় গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও সমস্যায় পড়েছে। সময়মতো পোশাক তৈরি করে বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

হাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কন্টেইনারটি নিয়ে করা অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।