নিখোঁজের ২৬ দিন পর কিশোরের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার

নিখোঁজের ২৬ দিন পর কিশোরের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়গোড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনায় সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত রাশেদুল উপজেলার কৃষ্ণমহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— ফুলপুর উপজেলার কুকাইল এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) ও মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।

সোমবার বিকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রোববার উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ই আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় রাশেদুল। পরদিন ১৩ই আগস্ট নিখোঁজ রাশেদুলের বাবা শাহাজান মিয়া বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজ ডায়েরি করার পর ওই দিন রাতেই রাশেদুলের মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় গত ২৫শে আগস্ট নিহত রাশেদুলের বাবা শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে গত ৬ই সেপ্টেম্বর নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জ থেকে মো. জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোজ্জাম্মেল হোসেন ও রফিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর জসিমের দেয়া তথ্য মতে, উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে রাশেদুলের মরদেহের মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করে। এ সময় তার পরনের একটি প্যান্ট ও গেঞ্জিও উদ্ধার করা হয়। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, উদ্ধার করা দেহাবশেষের সুরতহাল প্রস্তুত, ডিএনএ আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা— তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।