উখিয়ায় এক অভিযানে ১৫ টন ইউরিয়া জব্দ

উখিয়ায় এক অভিযানে ১৫ টন ইউরিয়া জব্দ

ফন্ট সাইজ:

কৃষকের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে সার সরবরাহ করছে, তার একটি অংশ চলে যাচ্ছে সীমান্তের দিকে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও ভর্তুকির ইউরিয়া সার অবৈধভাবে পরিবহনের পর মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সর্বশেষ উখিয়ার মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকায় প্রায় ১৫ টন ইউরিয়া সার জব্দের ঘটনায় আবারো সামনে এসেছে সীমান্তে সার পাচারের বিষয়টি। গত রোববার দুপুরে উখিয়ার মরিচ্যা বাজারসংলগ্ন চেকপোস্ট এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, ৩০-বিজিবি ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ অভিযানে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৫০ কেজি করে সার থাকায় জব্দ করা সারের পরিমাণ প্রায় ১৫ টন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে রাজাপালং ইউনিয়নের সার ডিলার সৈয়দ আহমদের সংশ্লিষ্টতায় এসব সার পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, সারগুলো বৈধ নিয়মে পরিবহনের পরিবর্তে অন্যত্র নেয়া হচ্ছিল। মরিচ্যা চেকপোস্টে তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ সার ধরা পড়ে। জব্দ করা সার বিধি অনুযায়ী নিলামে নিষ্পত্তি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, সরকারি ভর্তুকির সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে পরিবহন বা পাচারের সুযোগ নেই। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কোথাও যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে ইউরিয়ার চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তর থেকে সার সংগ্রহ করে সীমান্তের দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাঝেমধ্যে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ হলেও এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে উখিয়ার রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের কয়েকজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ফলে অভিযোগের আড়ালে প্রকৃত চিত্র কী, তা তদন্তের দাবি উঠেছে। কৃষি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকের জন্য ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা সার নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলে গেলে স্থানীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির অর্থও ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, মরিচ্যা চেকপোস্টে ১৫ টন সার ধরা পড়ার পর এই চালানের উৎস ও গন্তব্য কোথায় ছিল। কার মাধ্যমে সারগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল— এসব তথ্য কি তদন্ত করে বের করা হবে। তাদের মতে, শুধু পরিবহনের সময় সার জব্দ করে জরিমানা করলে পাচারের মূল চক্র বন্ধ হবে না। তাদের দাবি, সার ডিলারদের বরাদ্দ, বিক্রির হিসাব ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সীমান্ত পর্যন্ত সার যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় আনতে হবে।