শরীরের বাইরে হৃদয়, বাঁচার আকুতি রিফাতের

শরীরের বাইরে হৃদয়, বাঁচার আকুতি রিফাতের

ফন্ট সাইজ:

আমি বাঁচতে চাই, সবার মতো স্বাভাবিক জীবন চাই। জন্ম থেকেই বিরল শারীরিক জটিলতা ২০ বছরের রিফাতের এই আকুতি যেন কাঁদায় যেকোনো হৃদয়বান মানুষকে। যে বয়সে তরুণদের চোখে থাকে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন, সেই বয়সে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে পাবনার রাজাপুর গ্রামের এই তরুণ। জন্মের পর থেকেই শরীরের বাইরে অবস্থান করছে তার হৃদযন্ত্র। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার জন্য একেকটি অনিশ্চিত অপেক্ষা। সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চান পরিবার। জন্ম থেকেই বিরল শারীরিক জটিলতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে রিফাত। অসুস্থতার কারণে অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। স্বাভাবিক জীবন, খেলাধুলা কিংবা অন্য তরুণদের মতো ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা— সবকিছুই যেন তার কাছে অধরা। গত তিন মাসে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। এখন উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও নেই। বিছানায় শুয়েই কাটছে তার দিন-রাত।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জটিল অস্ত্রোপচার করা গেলে রিফাতের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। দরিদ্র পরিবারের কাছে এই অর্থ এখন যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেমে গেলে অকালে নিভে যেতে পারে একটি তরুণ প্রাণের আলো। পেশায় ভ্যানচালক রিফাতের বাবা বাচ্চু প্রামাণিক। গত ২০ বছর ধরে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন তিনি। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেছেন, তার বড় অংশই সন্তানের চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। ভিটেমাটি বিক্রি করেও এখন আর ৩০ লাখ টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বাচ্চু প্রামাণিক বলেন, আমি গরিব মানুষ। ৩০ লাখ টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবো। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব নয়। আর রিফাতের নিজের চাওয়া আরও ছোট, আমি বাঁচতে চাই। রিফাতের এই অসহায়ত্বে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি। মানুষের সামান্য সহযোগিতাই হয়তো মিলিয়ে দিতে পারে ৩০ লাখ টাকার বিশাল বোঝা। ফিরিয়ে দিতে পারে রিফাতের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। একজন বাবা ২০ বছর ধরে সন্তানের জীবন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই করছেন। এখন সেই লড়াই একা তার পক্ষে সম্ভব নয়। রিফাতের শরীরের বাইরে স্পন্দিত হৃদয়টি বন্ধ হতে চায় না। টিপটিপ স্পন্দিত হতে চায়।