প্রতি বছর খরা মৌসুমে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে। দীর্ঘদিনের এই পানির সংকট নিরসনে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে ‘পানি সরবরাহ’ প্রকল্প। প্রকল্পটি চালু হলে উপজেলা সদরের অন্তত ১ হাজার পরিবার নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ১০০ ঘনমিটার/ঘণ্টা ধারণক্ষমতার একটি পানি শোধনাগার, দু’টি উৎপাদক নলকূপ, ৬ ইঞ্চি পাইপলাইন ১১ হাজার ৬০০ মিটার এবং ৮ ইঞ্চি পাইপলাইন ১০ হাজার ৭৪৫ মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া দু’টি বুস্টার পাম্প হাউজ, চারটি ট্রান্সফরমার, আটটি পরীক্ষামূলক নলকূপ, পাঁচটি পাবলিক টয়লেট, দু’টি পাম্প হাউজ ও বিভিন্ন ক্ষমতার ১২টি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজারটি গৃহসংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানি সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর গত আগস্ট মাসে এটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা ও প্রয়োজনীয় দেখভালের জন্য পাঁচজন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি আদর্শপাড়ার বাসিন্দা মো. জসিম বলেন, গরমের সময় পানির জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। নতুন এই পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার পরিবারকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে প্রকল্পটি পরিচালনা করবে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রতি বছর গরম মৌসুমে যে পানির জন্য হাহাকার তৈরি হয়, প্রকল্পটি চালু হলে সেই পরিস্থিতির অনেকটাই অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
