শায়েস্তাগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামার, উদ্বেগ

শায়েস্তাগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামার, উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

তীব্র লোডশেডিং ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পোল্ট্রি খামারগুলো। এতে একদিকে যেমন মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে মৃত্যুর হার। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে গিয়ে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। কখনো কয়েক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন পোল্ট্রি খামারিরা। অনেক ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুও হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

পানি সরবরাহেও সমস্যাবিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে খামারের পানির মোটরও চালানো যাচ্ছে না। খামারিদের অভিযোগ, মুরগির খাবার, ওষুধ, ভ্যাকসিন, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এখন জেনারেটরের জন্য অতিরিক্ত ডিজেল বা জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে মুরগির দাম আশানুরূপ না থাকলে লোকসান আরও বাড়ছে। জেনারেটর চালিয়েও মিলছে না স্বস্তি বিদ্যুৎ না থাকলে খামার সচল রাখতে অনেকেই বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, বিদ্যুতের এই সমস্যা শুধু খামারিদের নয়, এর প্রভাব পুরো বাজার ব্যবস্থায় পড়তে পারে। খামারিদের দাবি, পোল্ট্রি খাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে খামার এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং না দেয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পোলট্রি খামারগুলো সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা দরকার। তা না হলে শায়েস্তাগঞ্জের পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ এবং দামের ওপরও।