গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নগরীর দু’টি সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯০ জন। এর মধ্যে শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে ১২৫ জন এবং টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে ৬৫ জন। সরকারি হিসাবের বাইরে সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুতে আরও অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
গত রোববার রাতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাপাসিয়ার পিরোজপুর গ্রামের আজিম শেখ (১৭) মারা যায়। অপরজন কোনাবাড়ীর পারিজাত এলাকার বাসিন্দা ও কোনাবাড়ী আইডিয়াল হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফতেখার হোসেন সিয়াম (১৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিল সিয়াম। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে গত শুক্রবার তাকে কোনাবাড়ীর শরীফ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রোববার রাতে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৫শে আগস্ট কোনাবাড়ীর কুদ্দুস নগর এলাকায় সুমাইয়া আক্তার ও ৪ঠা সেপ্টেম্বর মোহনা আক্তার নামে আরও দুই শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু কোনাবাড়ী বা জরুন নয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়নি। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
তবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত সরকার জানান, নিয়মিত লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসের কার্যক্রম চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতেই মশক নির্ণয়ের ওষুধ পাঠানো হয়েছে। সেগুলো ছিটানো হচ্ছে কিনা বা লার্ভা নিধন হচ্ছে কিনা তাও মনিটরিং করা হচ্ছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, জ্বর হলে বা জ্বরের পর শরীরের অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারলে ডেঙ্গু আক্রান্তের জটিলতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি নেই।
