ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ফন্ট সাইজ:

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় আনছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে এ বিশেষ কর্মসূচি। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর প্রজনন ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণকে একযোগে পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল ইবাদতের স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, তবে এ কাজে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়। কর্মশালায় ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সমাজে শিক্ষক ও ইমামদের প্রতি মানুষের বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁদের কথা ও আচরণের মানুষের ওপর প্রভাব পড়ে। তাই এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।