হাঙ্গেরিতে ভ্রমণের সময় একই থানার ১৫ সহকর্মীকে নিয়ে আয়োজিত ‘সেক্স পার্টি’র ঘটনায় দুই মেট্রোপলিটন পুলিশ (মেট) কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে বৃটিশ প্রশাসন। খবর ডেইলি মেইলের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃটেনের এক নারী পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেন যে, ওই ‘বেপরোয়া সেক্স পার্টি’র সময় এক পুলিশ সদস্য তার হাত ধরে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে ওই পুলিশ সদস্য তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন- এমন কোনো অভিযোগ নেই। একই নারী পুলিশ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, আরেক পুরুষ সহকর্মী তাকে যৌন নিপীড়ন করেছেন।
জানা গেছে, ওই ভ্রমণে মেট পুলিশের ১৫ জন দায়িত্বের বাইরে থাকা কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের কয়েকজন ওই ‘সেক্স পার্টি’র আগেই পরস্পরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
ডেইলি মেইল বলছে, তরুণ এসব পুলিশ কর্মকর্তা গত জুন মাসে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া নেয়া একটি বড় বাড়িতে অবস্থান করেন।
‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক রাতে মদ্যপানের পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য পরস্পরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময়ই এক নারী কনস্টেবল তার ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন।
মেট পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় দুই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া হয় এবং দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটির তদন্ত করতে গিয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ‘গভীরভাবে বিব্রত’ বলে দাবি করেছেন কয়েকটি সূত্র। ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি দেখায়, বিষয়টি নিয়ে মেট কতটা গভীরভাবে বিব্রত। এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে, তা বিশ্বাস করাই কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ওই ভ্রমণে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণ করতে একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।
আরেকটি সূত্রের দাবি, দলের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সার্জেন্টও ছিলেন। কীভাবে তাদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা চলতে দেয়া হলো, তা নিয়েও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মেট পুলিশের এক মুখপাত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, মেট পুলিশের পেশাগত মানদণ্ডবিষয়ক অধিদপ্তরের তদন্তের পর দায়িত্ব পালনরত দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ২০২৬ সালের জুনে বুদাপেস্টে ঘটেছে। তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বা অসদাচরণের সব অভিযোগই সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
