ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, ভোগান্তিতে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী

৫০ হাজার ফুট উঁচুতে আগ্নেয়গিরির ছাই

ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, ভোগান্তিতে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী

ফন্ট সাইজ:

আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাইয়ের কারণে জাকার্তাসহ ইন্দোনেশিয়ার আটটি বিমানবন্দর সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে অন্তত ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে শুক্রবার গভীর রাত থেকে নির্গত ছাই জাকার্তা ও এর আশপাশের বেশ কিছু এলাকা ঢেকে ফেলেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরটি সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতার কারণে এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জাকার্তার পার্শ্ববর্তী প্রদেশ ল্যাম্পুং এবং পশ্চিম জাভার বিমানবন্দরগুলোও অন্তত সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সবশেষ রবিবার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে এবং আগামী দিনগুলোতে এর মাত্রা আরও বাড়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির জাভা অংশে ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রা অংশে ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের কুণ্ডলী দেখা গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা লোকজনকে বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জাকার্তা ও ল্যাম্পুংয়ের স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার-এ অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট সুনামিতে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার ধ্বংসাবশেষ থেকেই এক শতাব্দী আগে আনাক ক্রাকাতোয়ার জন্ম হয়।