সরকার ভালো করলে দলের ইমেজ বাড়বে

সা ক্ষা ৎ কা র

সরকার ভালো করলে দলের ইমেজ বাড়বে

ফন্ট সাইজ:

সরকার আর দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেছেন, জনপ্রিয়তা বজায় থাকে ভালো কাজ করলে। আর সরকার ভালো কাজ করলে দলের ইমেজ বাড়বে। তখন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে সম্পৃক্ত হবে। সরকার গঠনের পর দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী রূপেই বিদ্যমান আছে মন্তব্য করেন দীর্ঘদিন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করা স্থায়ী কমিটির এই নেতা। এ ছাড়া জনগণের অভাব ও অভিযোগের কথা শুনতে ছুটির দিন এমপিদের নিজ এলাকায় যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

তিনি বলেন, সরকারে যারা আছেন সবাই দলের লোক। প্রধানমন্ত্রী তো নিজে আমাদের দলের চেয়ারম্যান। তাই দল আর সরকারের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি অবান্তর। রিজভী বলেন, এখন দলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো রয়েছে, সেখানে যারা কাজ করবেন, তারা অধিকাংশই সরকারি কার্যক্রমে থাকবেন। আমি এখন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। যদিও সরকারি একটা পদ রয়েছে, কিন্তু সেখানে মন্ত্রণালয়ের মতো বেশি কাজ নেই। পরামর্শ চাইলে সেটা দিতে পারি। আমি দলকে সময় দিতে পারি। আমাদের দলের পোর্টফোলিওতে যারা কোনো সরকারি পদ নেননি বা সরকারি পদে যাননি- তারা দলের কাজ করবে। যুগ্ম মহাসচিব আছেন, সাংগঠনিক সম্পাদকরা রয়েছেন, সহ-সাংগঠনিকরা যারা রয়েছেন-এরা দলের কাজ করবে। সুতরাং সরকারের সঙ্গে দলের কোনো কন্ট্রাডিকশন নেই।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র হলো যে, একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। যে দল বেশি আসন পাবে, সে সরকার গঠন করবে। সরকার যারা গঠন করবে তারা দলের লোক। তাদের তো ভাড়া করে নিয়ে আসবে না? সুতরাং সরকারের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রমে কোনো বিভেদ নেই।

সরকার গঠনের পর বিএনপি’র সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী রূপেই বিদ্যমান আছে জানিয়ে রিজভী বলেন, জনপ্রিয়তা বজায় থাকে ভালো কাজ করলে। রাজনৈতিক যে দলটা এখন ক্ষমতায়, তৃণমূলের কর্মী থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও কিন্তু সরকারের অংশ। তাই সরকার ভালো কাজ করলে, গঠনমূলক কাজ করলে জনগণের মধ্যে প্রশংসা হবে। তখন দলের ইমেজ বৃদ্ধি হবে। তখনই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দল করতে চাইবে।

রিজভী বলেন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্য দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। তার যে নেতৃত্বের গতিশীলতা এবং কমিটমেন্ট রক্ষার যে দৃষ্টান্ত, বাস্তবায়নের যে দৃষ্টান্ত-সেখানে কোনো কিন্তু নেই। সেগুলো দেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দল করতে চায়। তখন বুঝতে হবে যে দল শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, দলের যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যুক্ত হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই কাজগুলোর মধ্যদিয়ে জনগণের মাঝে এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা গড়ে উঠছে। সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া দল। জনগণ জিয়াউর রহমানকে যেভাবে দেখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যেমন দেখেছে, তার সংগ্রাম, নিপীড়ন-নির্যাতন ভোগ করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার যে একটা ব্যক্তিত্ব- এটা অসাধারণ। এটা আমাদের সংগঠনকে প্রভাবিত করে। আরেকটা হচ্ছে, সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারা ড্রাইভ দেবে নিজের এলাকায়। এই ড্রাইভ দিয়ে এলাকার মধ্যে যারা ভালো মানুষ আছে, সে কৃষক হতে পারে, সে শ্রমিক হতে পারে, শিক্ষক হতে পারে, সাংবাদিক হতে পারে- এদেরকে দলে নিয়ে আসবে। সংগঠন এভাবেই শক্তিশালী হয়। দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্টের ক্যাডার ছিল। সে যদি এখন নিজে বাঁচার জন্য বিএনপি করতে চায়, তাহলে সেটা তো দল হবে না।

বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, খুব দ্রুতই কাউন্সিল হবে। এজন্য আমাদের মানসিকভাবে যেটা প্রস্তুত থাকা, সেটা আমাদের বলা হয়েছে। নেতাকর্মীরা তাদের যে প্রস্তুতি, আর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য শিডিউল ঘোষণা করতে হয়। কাউন্সিলের জন্য তারিখ ঘোষণা করা হলে তৎপরতা আরও বেড়ে যাবে, আরও জোরদার হবে। রিজভী বলেন, কাউন্সিলে যদি কেউ গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের কথা বলেন যে, এই ধারাটা কিন্তু পরিবর্তন হবে, তাহলে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বরাবর কাউন্সিলের সাতদিন আগে তাকে চিঠি দিতে হবে যে, আমার এইটা কাউন্সিলে উত্থাপিত হলো। কাউন্সিলটা পার্লামেন্টের মতো। পার্টির পার্লামেন্ট। সুতরাং যেখানে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সংযোজন হওয়ার দরকার, সেখানেই হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি’র সাংগঠনিক যে স্ট্রাকচার, ঠিক আছে। কিন্তু অপজিশনে থাকলে মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন, কর্মিসভা একটু বেশি হয়। এখন আমাদের সরকার পরিচালনা করতে হয়। আমাদের স্ট্রাকচার ঠিক আছে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের যে এক্সচেঞ্জ, যেটা আদান-প্রদান, সেটাও সব ঠিক আছে। এখন আমাদের কিছু সাংগঠনিক নতুন যেগুলো কাজ, জেলায় জেলায় একটা সভা করা, কর্মিসভা করা। এখানে বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনগুলো তারা তাদের অ্যাক্টিভিটিস দেবে নানা ইস্যুতে।

দলের অনেক সিনিয়র নেতার সরকারের দায়িত্ব না পাওয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, সরকারের দায়িত্ব না পাওয়ায় কারও হয়তো মন খারাপ থাকতে পারে। কিন্তু যারা মৃত্যুঞ্জয়ী সংগ্রাম করেছেন, মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে লড়াই করেছেন, তারা কী দলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবে? কোনোদিনও করবে না। প্রধানমন্ত্রী তিনি তো অনেককেই প্রোভাইড করেছেন। অনেক সাবেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কেউ চেয়ারম্যান হয়েছেন, কেউ এমডি হয়েছেন। আর দলীয় স্ট্রাকচারে থাকাটাই হচ্ছে আমাদের বড় মূল্যায়ন। দল সরকার গঠন করেছে, এটাতেই আমরা খুশি।

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি’র সাংগঠনিক ব্যর্থতা নেই বলেই মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, সাংগঠনিক ব্যর্থতা আমি বলবো না। তবে সিনিয়র নেতা বা মন্ত্রীরা তারা এলাকায় গেলে, মন্ত্রীরা না হলেও এমপিরা যেন ছুটির দিনটা এলাকায় কাটান। আমার মনে হয় যে, সংগঠনের মধ্যে যাতে কোনো গ্যাপ না হয়, সেটা বিবেচনা করেই মন্ত্রী, বিশেষ করে এমপিদের ছুটির দিনটা এলাকায় কাটাতে হবে। বাড়িতে গেলেই এলাকার লোকজন আসবে। অভাব-অভিযোগের কথা বলবে। সুখ-দুঃখের কথা বলবে। সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাহলে তার জনপ্রিয়তাও বাড়বে।