সাভারে এসবি’র এসআইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

সাভারে এসবি’র এসআইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

ফন্ট সাইজ:

সাভারের আমিন বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি’র) এক উপ-পরিদর্শককে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলেও। পরিবারের অভিযোগ, মাদকাসক্ত একটি চক্র কারখানায় ঢুকে বাবা-ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলাম (৩২) নামে এক প্রাইভেটকারচালককে গ্রেপ্তার করেছেন। নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবি’র ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিন বাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

একই এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানা করে মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬)। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জহিরুল ইসলাম আমিন বাজারের বড়দেশি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৮টার দিকে আলতাব হোসেন কারখানার পাশের একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে কয়েকজন যুবককে গ্যারেজ মালিক বৃদ্ধ আবুল কালামকে মারধর করতে দেখেন। অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের সাইড দেয়া-নেয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাব হোসেন এগিয়ে গিয়ে মারধরের কারণ জানতে চান।

এ সময় হামলাকারীরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন। তবে পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কানে আঘাত পেয়ে তিনি দৌড়ে নিজের কারখানায় চলে যান। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম বাবার সঙ্গে কারখানার বাইরে বের হন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার কারখানার সামনে এসে থামে। গাড়িতে থাকা লোকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হয় বলে পরিবারের দাবি। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি প্রথমে আরিফুলকে মাটিতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

একই সময়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাব হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলাকারীরা কারখানায় ঢুকে মেশিনপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার পাশে বালু ফেলে একটি মাঠের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে। সেখানে ওই ব্যক্তিরা নিয়মিত মাদকসেবন করতেন। তার বাবার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়ে এসবি’র সদস্য আলতাব হোসেন ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাব হোসেনকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন (৫৮)কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শিউলী বেগম বাদী হয়ে রোববার সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলাটি করেন। হত্যার ঘটনায় জহিরুল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জহিরুলসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিন বাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। গ্রেপ্তারকৃত জহিরুল ইসলাম সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ঘটনাস্থলের ওই প্রাইভেটকারের মালিক বলে জানা যায়। তবে পুলিশের তদন্ত স্বার্থে বাকি আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, সাভারের আমিন বাজারে এসবি পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।