বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকার বেশি বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের (৭৫ কুষ্টিয়া-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ হিসাব তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কতো; ২০২৬ সালে কতো ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’ জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, ৩১শে মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি জানান, রাজস্ব আহরণের পরিধি সম্প্রসারণ, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (ঘঞজ) বৃদ্ধি তথা সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি ব্যয়কে অধিকতর সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার এবং অপ্রয়োজনীয় বা অগ্রাধিকার বহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়ন চাহিদা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ঋণের সুদব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা বা সিলিং অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকারের সামগ্রিক সুদব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। নগদ প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’-এর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ এর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
