চলতি মাসেই তফসিল

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

চলতি মাসেই তফসিল

ফন্ট সাইজ:

চলতি মাসেই ঘোষণা হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচনকে নিরাপদ, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে দেশের সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের মাঠে নজরদারি বাড়াতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহারও বাড়ানো হবে। দ্রুত পরিস্থিতির তথ্য পেতে ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুকদের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। মাঠপর্যায়ে দেয়া ইসির চিঠি অনুযায়ী, আবেদনের নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ই সেপ্টেম্বর। এরপর ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় শুধু নিরাপত্তা নয়, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রাখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশনার বলেন, সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে করা কঠিন। ব্যয় সংকোচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ব্যস্ত সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকে। অথচ ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের চিন্তা করছে কমিশন।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চালু করা কয়েকটি নতুন বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হবে। পোস্টারের ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রচারণা, বিলবোর্ড ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রচারণায় অপচনশীল দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কয়েকটি বিধান রাখা হয়েছে। বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে।

জামায়াতের ৯ দফা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে না রাখাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন অরাজনৈতিকভাবে হতেই হবে। যেহেতু আইন রয়েছে, সেখানে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলার সুযোগ নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সম্মানিত ব্যক্তি। তারা নির্বাচনে প্রার্থী হলে সহকর্মীদের কেউ তার পক্ষে কাজ করতে পারেন। আবার ওই সহকর্মীদেরই ভোটের দায়িত্বে নিয়োগ দিতে হয়। এতে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে শিক্ষকদের ভোটের বাইরে রাখার বিষয়টি কমিশন চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানান তিনি। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না-জামায়াতের এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি চাপে আছি, নাকি স্বাধীন আছি, এটা তো আমি জানি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করে না, সেটা যদি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, সেটাও সঠিক নয়।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা ভোটের পর আদালত বাতিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের আদেশের কপি কমিশনের হাতে এখনো পৌঁছেনি। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।