রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদলের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং কেউ কেউ অতীতে র্যাবেও কর্মরত ছিলেন। পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে ধানমণ্ডির একটি স্থানে দেখা করতে যান। স্বর্ণের লেনদেনের সময় তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে রিকশাযোগে ধানমণ্ডির ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে আসা হয়। এরপর ঐ চক্রের কয়েকজন রিকশাটির গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে করে এসে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তানভীর আবেদীন (৪১), মো. মজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)। এদের মধ্যে- মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির অনারারি ক্যাপ্টেন এবং সোলায়মান মৃধা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।
যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত ৩০শে আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ধানমণ্ডি মডেল থানাধীন ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি করে ৮-১০ জনের একটি দল। ডাকাতরা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানমণ্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়। এরপর আটক মজিবুর রহমানের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত চক্রের আরও পাঁচ সদস্য মো. সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন এবং সজল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডাকাতির পরিকল্পনা তুলে ধরে যুগ্ম কমিশনার বলেন, চক্রটির কয়েকজন সদস্য স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তারা স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতা সংগ্রহ করে তাদের কাছে স্বর্ণ বিক্রির প্রস্তাব দিতেন। এভাবেই খোরশেদ আলমকে স্বর্ণ কেনার কথা বলে চক্রের সদস্যরা ধানমণ্ডির একটি স্থানে নিয়ে যান। পুলিশের ভাষ্য, স্বর্ণের লেনদেনের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী খোরশেদ আলমকে রিকশায় করে ধানমণ্ডির ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় আগে থেকেই মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন ডাকাত অবস্থান করছিলো। চক্রের সদস্যদের দেয়া সংকেত অনুযায়ী অন্য সদস্যরা রিকশাটির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খোরশেদ আলমের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়। পরে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা প্রথমে ক্রেতাদের সঙ্গে স্বর্ণ কেনাবেচার বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর স্বর্ণ ও টাকার বিনিময়ের জন্য অন্য স্থানে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করা হয়।
উদ্ধারকৃত টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযানে মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মোট ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ডাকাত সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ধানমণ্ডি মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা এবং অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
