মেট্রিকে ফার্স্ট ডিভিশন। ইন্টারে সেকন্ড ডিভিশন। অনার্সে পড়তে গেলে স্ন্নেহের সুরে শিক্ষক বললেন, তাহলে এবার কি থার্ড ডিভিশন? এই বলেই থামলেন না। আশাভরা আশীর্বাদও রাখলেন। বললেন, একদিন অনেক বড় হবে। সময় নামক ঘড়ি ছুটে চলে। নানান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। একই সঙ্গে কাজ আর পড়াশোনা চালিয়ে যান। তখন টেলিভিশন একেবারেই নতুন মাধ্যম। হাতের কাছে একমাত্র বিনোদন। মানুষ মুখিয়ে থাকে বিটিভি’র অনুষ্ঠান নিয়ে। যুক্ত হলেন চারকোণা এই বাকশোর দুনিয়ায়। একের পর এক অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হলেন। একসময় বিনোদন থেকে দর্শকদের নিয়ে গেলেন মাঠে। প্রান্তিক মানুষের কাছে। কৃষকের দোরগোড়ায়। বদলে দিলেন টেলিভিশন সাংবাদিকতার ভাষা। বলছিলাম, শাইখ সিরাজের কথা। কৃষি ও কৃষককে নিয়ে একাধিক সফল অনুষ্ঠানের কারিগর এই মানুষটি। মাটি ও মানুষ। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ। মাটি ও মানুষের ডাক। ফিরে চলো মাটির টানে। ছাদ কৃষি। কাজের স্বীকৃতিও কম মেলেনি। দেশে পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক। বাইরের দুনিয়ায় জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড, ফিলিপিনসের গুচি পিস প্রাইজসহ একাধিক সম্মাননা। জন্মদিনে মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কৃষি ও কৃষকদের সঙ্গে কাটানো চারদশকের নানান অভিজ্ঞতার কথা। তুলে ধরেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও।
প্রশ্ন: ভুগোল পড়তে গেলেন কিন্তু সারা দুনিয়া আপনাকে জানেন একজন কৃষিপাগল মানুষ হিসাবে? এটা কীভাবে?
- ভূগোল ভালো লেগেছে তাই পড়েছি। কিন্তু কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে কিশোর বয়স থেকেই। স্কুল জীবনে, যখন বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাবা আমাদের শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। বছরে একবার যাওয়া হতো। সে সময়টার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। ক্লাস নাইন-টেন পর্যন্ত টানা দশবছর শীতে গ্রামের বাড়িতে যেতাম। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস। গ্রামের শিশির ভেজা মাঠ, খেজুরের রস, আমন ধান ওঠার পরে খড় দিয়ে কলাই পুড়িয়ে খাওয়ার কথা খুব মনে পড়ে। এ সময়টাতে গ্রামে দারিদ্র্যতা যেমন দেখেছি তেমনি সৌন্দর্যটাও দেখেছি। নদী ভাঙা মানুষের কষ্ট দেখেছি। ভাত রান্না করার সময় যারা দরিদ্র তারা ভাতের মাড়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। এই দৃশ্যগুলো এখনো কষ্ট দেয়। ষাটের দশকের সে সময় গ্রামের মানুষের পাওয়া না পাওয়া দু’টিই দেখেছি। স্কুল জীবনে যে চিত্র দেখেছি, গ্রামের মানুষের পরবর্তীতে আশির দশকে মাটিও মানুষ করার জন্য ক্যামেরা নিয়ে যখন গ্রামে যেতাম তখন একইরকম চিত্র দেখেছি। তখনও দেখতাম কষ্টে থাকা মানুষের মুখচ্ছবি। কথা হচ্ছে, এই তাগিদে মাটি ও মানুষ করেছি- তা নয়।
একাত্তরে দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তান থেকে আমরা যেভাবে নিপীড়িত-নিষ্পেষিত হয়েছি তা আমার স্পষ্ট মনে আছে। দেশ স্বাধীনের পরে আমি টগবগে তরুণ। ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলাম নটর ডেম কলেজে। বাহাত্তরে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিটিভিতে মাটি ও মানুষ শুরু হলো আশি সালে। মাঝে আট বছর চলে গেল স্বাধীনতার পর। তখন অন্য অনেকের মতো আমারও আগ্রহ ছিল দেশ গড়বো সবাই মিলে। তখন একজন কৃষক, একজন শ্রমিক, একজন রিকশাওয়ালা সবার মধ্যে একটা তাগিদ কাজ করছিল দেশ গড়ার।
আশি সালের আগ পর্যন্ত টেলিভিশনে শিল্পায়নের বাংলাদেশ, যুবমেলা নানানরকমের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন খাদ্য ঘাটতির দেশ। খাদ্য আমদানি করতে হতো। অথচ আমাদের অর্থনীতি হচ্ছে- কৃষিনির্ভর। মনে হলো, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে। জিডিপি’র সিংহভাগ আসে কৃষি থেকে। তখন টেলিভিশন ছিল অসম্ভব শক্তিশালী। একমাত্র বিটিভি। কারও যদি বিনোদিত হতে হয় তবে এটাই একমাত্র মাধ্যম। মনে হলো, এতো শক্তিশালী যে মিডিয়াকে যদি দেশ গঠনে কাজে লাগানো যায়।
প্রশ্ন: টেলিভিশন ছিল বিনোদনের বাকশো, আপনি এটিকে নিয়ে গেলেন উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে?
- আমি নিজেও বিনোদনের মধ্যেই ছিলাম কিন্তু পরে চিন্তা করলাম- না বিটিভিকে যদি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়। তখন দেশে কলকারখানা খুব একটা স্থাপিত হয়নি। যা ছিল তা করতো পাকিস্তানি মাড়োয়ারিরা। দেশ যেন শিল্পমুখী হয় তাই শুরু করলাম শিল্পায়নে বাংলাদেশ। এটা শুরু কলার উদ্দেশ্য মানুষ যেনো এই অনুষ্টান দেখে নতুন নতুন শিল্প নিয়ে কাজ করে। রাত ৮টার বাংলা সংবাদের শেষে প্রতিদিন ৫ মিনিট করে দেখানো হতো ‘শিল্পায়নে বাংলাদেশ’। বিভিন্ন ছোট ছোট শিল্প নিয়ে ছিল এই আয়োজন। মানুষ দেখতো আর বলতো আরে আমাদের দেশে এগুলো হয়। তখনই বুঝতে পারি টেলিভিশনের শক্তি আসলে কতটা। এই শিল্পায়নের বাংলাদেশ-ই পরবর্তীতে আমাকে শক্তি যোগালো। আমি বুঝতে পারি টেলিভিশনের শক্তি আসলে কি। ধীরে ধীরে আমি কৃষির দিকে ঝুঁকতে লাগলাম। নতুন প্রযুক্তি, নতুন ফসল, নতুন কথা এগুলো যুক্ত করতে লাগলাম।
প্রশ্ন: কৃষি নিয়ে কাজ শুরু করলেন, আপনার বেশভূষাতেও একটি বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে? পলিমাটির রঙধরা ধূসর টাউজার আর সবুজ বুশ শার্ট। চারদশকেও এটি বদলায়নি? এটা কি ভেতরের চেতনা থেকেই করছেন?
- ভেতরের চেতনাটাই প্রকাশ হচ্ছে। এত বছরে কৃষিতে বিপ্লব ঘটে গেছে কোনো সন্দেহ নেই। আগে জমি ছিল কোথাও এক ফসলি আর কোথাও দু’ ফসলি। একটা-দুটো ফসলের উপর নির্ভর করে আমাদের জীবন-যাপন করতে হতো। এখন কত ধরনের ফসল। বছরব্যাপী ফসল। কত ধরনের ফলফলাদি হচ্ছে। কত ধরনের ধানের চাষ হচ্ছে। আগে শীত এলে শাক-সবজি খাবো অপেক্ষায় থাকতে হতো। এখন সারা বছরই সবজি পাওয়া যায়। কত পরিবর্তন এসেছে কুষির কারণে। কিন্তু এই পরিবর্তনটা কৃষকের জীবনে এসেছে। না- আসেনি। কৃষক সেই চাষাভূষাই রয়ে গেছেন। সে আর মাথার গামছা ছেড়ে প্যান্ট শার্ট ধরেননি। এখনও তিনি কয়লা দিয়েই দাঁত মাজেন। তার হাতে ব্রাশ পৌঁছেনি। তার জীবনযাত্রার উন্নতি হয়নি। কৃষক যে ফসল উৎপাদন করেন তিনি তার যথার্থ মূল্য পান না বলেই এ সংকট। এগুলো পরিবর্তন করতেই একসময় কৃষককে মূল ধারার পলিসির সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করি ‘কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট’। যে কৃষক গ্রামে তার চেয়ারম্যান বা মেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস পান সেই কৃষককে আমি মুখোমুখি করালাম রাষ্ট্রের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে। এটা করাবার উদ্দেশ্য হচ্ছে- কৃষকের যে বরাদ্দ বাজেটে রাখা হয়েছে তাতে কতটুকু উপকৃত হচ্ছেন বা পাচ্ছেন কৃষক।
প্রশ্ন: চারদশকে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতাটা কেমন?
- এটা সবচেয়ে অবহেলিত সেক্টর। দেশের সবচেয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয় কৃষি ও কৃষক। অথচ দেশের আশি ভাগ মানুষ নির্ভর কৃষির উপর। একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় ২০০৯ সালের দিকে বাজেট নিয়ে কথা হচ্ছে। একটি সেচ যন্ত্র, যার মালিক কৃষক নাও হতে পারে। তা দিয়ে ৪০০ বিঘা জমিতে সেচ দেয়া হয়। এতে বিদ্যুৎখাতে সরকার সাবসিটি দিচ্ছে ২০ ভাগ। এই সাবসিটির ভাগিদার কিন্তু সুবিধাভোগী সকল কৃষক। অথচ এই তথ্য সেচ যন্ত্রের মালিক ছাড়া কেউ জানে না। আর তা চলছে যুগের পর যুগ। সরকার অনেক ধরনের সুবিধা দিচ্ছে অথচ কৃষক তা জানেন না।
প্রশ্ন: আমাদের এখানে কৃষিঋণ একটি আতঙ্কের বিষয়, নির্বাচনে সব দলই এ নিয়ে বিশেষ ঘোষণা চালু রাখে, বর্তমান সরকারও এর বাইরে না, কীভাবে দেখছেন?
বর্তমান সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। সবমিলে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার মতো। রাষ্ট্রের কাছে এটা খুব বড় বিষয় নয়। যদিও কৃষকরা ৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ না করলে মাজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ শীর্ষে। যেমন একটা সময় ছিল শুধু সরকারি ব্যাংক ঋণ দিতো পরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও বলা হলো ঋণ দিতে। তাদের অনেক জায়গাতে শাখা না থাকায় এনজিও’র মাধ্যমে তা ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে। সরকার যেখানে শতকরা ৫ ভাগ সুদে দিতো এনজিও’র মাধ্যমে দেয়া তা পড়ে যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ভাগে। যুগের পর যুগ ধরে এই শুভঙ্করের ফাঁকি চলছেই। এতো বড় একটি স্টেকহোল্ডার অথচ যুগের পর যুগ অবহেলার শিকার।
প্রশ্ন: আমরা সামনের দিনগুলোতে আশাবাদী হবো কিনা?
- আমাদের আশাবাদী তো হতেই হবে। এই লম্বা সময়ে কৃষকের যে উন্নতি হয়নি তা নয়। হয়েছে। আগে যে জমিতে ৫ মণ ধান হতো সেখানে হাইব্রিড বা উচ্চফলনশীল পদ্ধতি আসায় সেখানে এখন ২৫ মণ ধান হয়। ফলফলারি বা সবজির ক্ষেত্রেও তাই। বাড়তি উৎপাদনে কৃষকের আয় বেড়েছে এবং জীবনমানেরও উন্নতি হয়েছে। যারা আধুনিক প্রযুক্তিতে যাচ্ছে উন্নতিটা তাদের হচ্ছে। যে কৃষক এখনো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে না তারা পিছিয়ে আছে। আমার পঁয়তাল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কৃষিতেও এখন জেনারেশন চেঞ্জ হয়েছে। আগে বাপ-দাদা কৃষিকাজ করতো লুঙ্গি কাছা মেরে কাঁদা মাটিতে নেমে। এখনো সেকেন্ড বা থার্ড জেনারেশন কৃষিকাজ করছে। তারা কিন্তু প্যান্ট শার্ট পরেই ক্ষেত খামারে কাজ করছে। এই জেনারেশন এখন স্ট্রবেরি, মাল্টা, বাউকুল চাষ করছে। মাছ চাষ করছে। পোল্ট্রি করছে। বাপ কিন্তু ৫ বিঘা জমিতে এখনো ধান চাষই করছে। আর ছেলে দুই বিঘা জমিতে নানান বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে।
প্রশ্ন: মাটি ও মানুষ দিয়ে শুরু, ছাদ কৃষি, ফিরে চলো মাটির টানে সামনের দিনে কি নিয়ে ভাবছেন?
- বর্তমানে খুশি হচ্ছে প্রযুক্তির কৃষি। একটা সময় ছিল যখন কৃষককে প্রযুক্তির কথা বললে কৃষক পিছিয়ে যেতো। আশির দশকে আমি যখন নতুন ধানের বীজ নিয়ে বললাম এটা পাঁচ মণের জায়গায় ২০ মণ ২৫ মণ ধান দেবে। এটা নিতে চাইতো না ভয় পেতো যদি না হয়। যখন প্রথম কুমিল্লার নোয়া গ্রামে বার্ডের মাধ্যমে মাটি খনন করে পানির ব্যবস্থা করে অসময়ে ধান চাষের ব্যবস্থা হয়। তখন কুমিল্লা থেকে বেশ ক’জন কৃষক গ্রাম ত্যাগ করেছিল। কেন তারা আল্লাহর ওপর খবরদারি করছে, এই গ্রাম টিকবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে। এখন হচ্ছে কৃষি হচ্ছে শতভাগ প্রযুক্তি নির্ভর। সে টমেটো কাটছে জিন্সের প্যান্ট পরেই। আমি গত দশ বছর প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি বাস্তবায়নে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছুটেছি। যে বিষয়টা আমাদের সরকার আরও দশ বছর সময় নিতো চিন্তা করতে সেটা আমি দশ বছর আগে করে দেখিয়েছি। কাজি পেয়ারা নিয়ে আশির দশকে প্রতিবেদন করেছি এখন ঘরে ঘরে কাজি পেয়ারা। এখন চলছে এআইয়ের যুগ। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে সকলকেই।
প্রশ্ন: দুটি বড় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার আপনি পেয়েছেন, দেশের বাইরেও অনেক স্বীকৃতি আপনার হাতে, জীবনে কোনো দুঃখ বা অতৃপ্তি আছে কিনা?
- কোনো অতৃপ্তি বা দুঃখবোধ নেই। ভালোবেসে কাজ করেছি। এখনো ভালোবেসে কাজ করি। শুটিং থাকলে রাত তিনটা-চারটায় বের হয়ে মাঠে গিয়ে কৃষকের ঘুম ভাঙাই। তবে কৃষিতে এখন পরিবর্তন আসছে। আমাদের কালে বাপ-দাদারা মাঠে নিজে কোদাল নিয়ে নামতো। এখন দিন বদলেছে। গৃহস্থ কৃষক তো এখন মাঠে যায় না। এখন শ্রমিকরা কাজ করে মাঠে আর কৃষকরা বসে বসে টিভি সিরিয়াল দেখে। আশির দশক থেকে আমি মাঠে ছুটছি এখনো তাই করছি। একটাই চাওয়া, আর পাঁচটি বছর যদি কাজ করে যেতে পারতাম তবে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়তে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতাম।
প্রশ্ন: কৃষি ও কৃষকের সমস্যা নিয়ে বরাবরই সোচ্চার। বর্তমান সরকার প্রধানের মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারকে কি পরামর্শ দেবেন?
- জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের কৃষি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার। এআই বা কৃষিনির্ভর প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া দরকার সারা দেশে। যাতে কৃষিতে ব্যয় কমবে সময়ও বাঁচবে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। দিন দিন আমরা এত বিষাক্ত জিনিস খাচ্ছি যে স্বাস্থ্যের খুবই খারাপ অবস্থা। খাদ্যে বিষক্রিয়া, মাছে বিষক্রিয়া, এগুলো থেকে বের হওয়া দরকার। আমাদের স্টোরেজ ফেসিলিটি খুবই বাজে। বাইরে রপ্তানি করার জন্য সেরকম ভালো মানের পণ্য আমরা চাষ করি না। যে পণ্য রপ্তানি করার জন্য দরকার হচ্ছে জিএপি সার্টিফাইড প্রডাক্ট। অনেক বিধি-বিধান মেনে প্রোডাক্ট করতে হবে। অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ নিয়ম মেনে ওই ফসল উৎপাদন করতে হয়। এথনিক মার্কেটগুলোতে সরকারের নজর দেয়া উচিত। কৃষককে মর্যাদায় রাখা জরুরি। দেশের খাবারের ঘাটতি থাকলে পকেটের টাকা খরচ করে খাদ্য আমদানি করে খাওয়ানো হলে অর্থনৈতিক অবস্থার বারোটা বেজে যেতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ খালি হয়ে যেতো। এত বড় অবদান যে কৃষক করছে তাকে কি করছি?
প্রশ্ন: অনেকেই বলেন, জনপ্রিয়তার এক ধরনের বিড়ম্বনাও আছে। আপনি কীভাবে দেখেন?
- খ্যাতি হলে বিড়ম্বনা হবেই। তবে স্থান-কাল-পাত্র বেধে বিড়ম্বনা একেকরকম পরিস্থিতির জন্ম দেয়। স্থিতিশীল আর শিক্ষিত সমাজে বিড়ম্বনা একরকম আর অস্থিতিশীল ও অশিক্ষিত সমাজে তাহলে ভিন্ন। সেলফোন হাতে থাকার কারণে জেনে বা না জেনে খুব সহজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে নিয়ে কটূক্তি করার যে সংস্কৃতি এটা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত। এখনো এ ধরনের কটূক্তিরোধে আইন শক্তিশালী নয় বলে মানুষ মানহানির মামলা করছে না। কিন্তু এটা এক ধরনের অপরাধ। এটা সেই চিলে কান নেয়ার অবস্থা। এ প্রসঙ্গে পাঠকের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আমি যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেই সরকার প্রধানের মুখোমুখি হয়েছি কৃষির নানান সমস্যা নিয়ে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়েছি তিনবার। শেখ হাসিনাকে একবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি কৃষি কার্ড উদ্বোধনের দিন টাঙ্গাইলে। কৃষকের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন জারি রাখাই আমার সাংবাদিকতা।
