সিলেটে ইউপিতে ভোটের হাওয়া

সিলেটে ইউপিতে ভোটের হাওয়া

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের তৃণমূলে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সামনে ইউপি নির্বাচন। এজন্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থীরাও ভোটের জন্য প্রস্তুত। সরকার দল বিএনপিতে এবার প্রার্থীর ছড়াছড়ি বেশি। একক প্রার্থী দেয়া কষ্টকর হলেও নেতারা জানিয়েছেন যেকোনো উপায়ে হলেও তারা একক প্রার্থী বাছাই করবেন। এজন্য পথ খোঁজা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইউপিতে একক প্রার্থী দিচ্ছে। সিলেট জেলায় এরই মধ্যে ৮০ ভাগ ইউনিয়নে তারা একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এনসিপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সব ইউনিয়নে না হলেও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে সেসব ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সিলেটে ইউনিয়ন সংখ্যা ১০৬টি। সব উপজেলায় নির্বাচন একসঙ্গে নাও হতে পারে। পর্যায়ক্রমে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। এ কারণে তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে না কোন উপজেলায় কবে নির্বাচন।

তবে রাজনৈতিক দল, প্রার্থীদের প্রস্তুতি সব উপজেলাতেই রয়েছে। তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন- জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৃণমূলে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। প্রার্থী আপাতত দলের ভেতরে বেশি লড়াই চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এসব প্রার্থীদের তোড়জোড়ে মাঠে নির্বাচনী হাওয়াও বইছে। তাদের মতে, প্রার্থী নির্বাচনে বেগ পেতে হবে বিএনপিকে। প্রার্থী বেশি থাকায় যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেয়া হবে চ্যালেঞ্জ। তবে বিষয়টিকে এত কঠিনভাবে দেখছেন না জেলার নেতৃবৃন্দ। জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও নগর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট জেলার সবক’টি ইউনিয়নে বিএনপি’র পক্ষ থেকে একক প্রার্থী বাছাই করা হবে। আর এ প্রক্রিয়া সহসাই শুরু হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন- বিএনপি এবার প্রার্থী বাছাই করবে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে। যারা তৃণমূলের সমর্থন পাবে তারাই নির্বাচনে দলের সমর্থন বা মনোনয়ন পাবে। এই প্রক্রিয়ার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। পাশাপাশি যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেটে সব উপজেলা কমিটি তাদের ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চালাবে। বিষয়টি মনিটরিং করবে জেলা কমিটি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকেই ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই দলের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ইতিমধ্যে সিলেটের ৮০ ভাগ ইউপিতে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০ শতাংশ ইউপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির জেলার নেতারা। জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন- জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

যেসব ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে তারা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বলেন- জামায়াতে ইসলামী এবার তৃণমূলের নির্বাচনে ভালো করবে। যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষেই দলের তৃণমূলের সমর্থন রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে কিছু শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে জানান তিনি। এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে এনসিপি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কিছু কিছু ইউনিয়নে প্রার্থী দেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে এসব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। অন্যদিকে বর্তমানে অনেক ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রয়েছেন আওয়ামী লীগের। অনেককেই এরইমধ্যে অনুপস্থিতি, মামলাসহ নানা কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে যারা মামলায় আসামি হননি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়ার কাজ শুরু করেছেন।