ঝগড়ার জেরে স্ত্রীকে গুলি, গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় নিজ বাসায় ঝগড়ার জেরে গৃহবধূ জেসমিন আক্তারকে গুলির ঘটনায় স্বামী-ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি পিস্তল ও মাদক উদ্ধার করা হয়। রোববার বিকালে কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আহত নারীর স্বামী মো. আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নান (৪৫), ছেলে মো. রাকিব (২৫) এবং ছেলের বন্ধু মো. হাতিম মিয়া (২১)।

র‌্যাব জানায়, ঝগড়ার পর জেসমিনকে মাতাল অবস্থায় গুলি করেন তার স্বামী নিজেই। পরে অস্ত্র লুকাতে দেন ছেলে রাকিবকে। সে অস্ত্রটি লুকাতে দেয় তার বন্ধু হাতিমকে। হাতিমের বাসার ওয়্যারড্রব থেকে দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিনসহ বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-৪ অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় দারুসসালাম থানাধীন মসজিদ গলি এলাকায় নিজ বাসায় একজন নারী গুলিবিদ্ধ হন। আহত ওই নারীকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব জানতে পারে, ওই গৃহবধূকে গুলি করে তার স্বামী আব্দুল মান্নান নিজেই। পরে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল রাত সাড়ে ৩টায় দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

হাফিজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারের পর আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার পর অস্ত্রটি অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখার জন্য ছেলে রাকিবের কাছে দেয়। এরপর র‌্যাব-৪ ও দারুসসালাম থানার দু’টি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে দারুসসালাম এলাকা থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে। রাকিব জানায়, অস্ত্রটি তার এক বন্ধু হাতিমের বাসায় লুকিয়ে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ আভিযানিক দল ওই বন্ধুর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে হাতিমের বাসার একটি কক্ষের ওয়্যারড্রবের ড্রয়ারের ভেতর থেকে লুকানো অবস্থায় একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্রটিই ওই গৃহবধূকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মান্নান, রাকিব এবং অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করায় হাতিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, মান্নান ওই এলাকার একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।

মান্নান বেশির ভাগ সময় মাদকাসক্ত থাকতো। ঘটনার দিন রাতেও সে মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মাদক গ্রহণ ও মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সে স্ত্রীকে গুলি করে। গুলিটি জেসমিনের ডান হাতের বাহুতে লাগে। আহত গৃহবধূ ও তার ছেলে মাদকের সঙ্গে জড়িত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারী মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তার স্বামী মাদক ব্যবসা করতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকতো। রাকিবেরও মাদকাসক্তের কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তাকে দেখে মাদকাসক্ত বলে মনে হয়নি।

অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত নিজেকে বাঁচানোর জন্য মান্নান অস্ত্রটি ছেলের কাছে দিয়েছিল। পরে রাকিব অস্ত্রটি হাতিমের কাছে লুকিয়ে রাখার জন্য দেয়। তিনি বলেন, ঘটনার পর রাকিব একটি গল্প তৈরি করেছিল যে, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। তবে তদন্তে বের হয়েছে, সেটি তার বানানো গল্প। মূলত মান্নান ঘরের ভেতর থেকেই তার স্ত্রীকে গুলি করেছে।