পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানুর পদত্যাগের দাবিতে বিভাগে তালা ঝুলিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ। রোববার বিকালে বিভাগের অফিসে তালা দেন তারা। এর আগে একই দিন দুপুর ৩টার দিকে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্মের কাছে লিখিত আবেদন দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং বিভাগীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগও করা হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। আবেদনে উল্লেখ করা অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা, বিভাগীয় সমস্যাগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে সমাধানে ব্যর্থতা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ, একাডেমিক মূল্যায়ন ও মার্কিং ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য এবং স্টুডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি।
এ ছাড়া, আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সঙ্গে অসহযোগিতা, সেমিস্টার প্রজেক্ট ও একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা, কেন্দ্রীয় রুটিন থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া, সেশন জট এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও করেন তারা। লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থে স্টুডেন্ট ফান্ড ও আইএবি-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এবং একাডেমিক জটিলতা ও সেশন জট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে একজন যোগ্য, দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী এই আন্দোলনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তারা বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সব সময় পিছিয়ে আছে। বিভাগের শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দলের কারণে আমাদের আগের ব্যাচগুলোর পড়াশোনা শেষ করতে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। বিভাগের নামে যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আন্দোলন করানো হচ্ছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ ও ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানু।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের কেউ আমার কাছে এসে বলেনি যে, ম্যাম, সমিতির টাকার হিসাব দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট তাদের হাতে যাওয়ার কথা নয়। তারা যেটা দেখাচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
