৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮.৬৫ শতাংশ

৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮.৬৫ শতাংশ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৮.৬৫ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতেও ভাটা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। আর দেশটিতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য দুই-ই কমেছে।
অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অটেক্সার তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটির পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় পোশাক আমদানির পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অটেক্সার তথ্যমতে, গত বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ছিল, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও পোশাকের মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে জুলাই মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার আরও বেশি ছিল। একক মাস হিসেবে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে চীন ও ভারতে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এ ছাড়া, পাকিস্তানের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া এ সময়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

পোশাকের পিস বা সংখ্যার হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে। এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পিস সংখ্যা কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিপরীতে চীনের কমেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া পিসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

গড় ইউনিট মূল্যের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ দেশের পতন দেখা গেছে। চীনের ইউনিট মূল্য কমেছে সবচেয়ে বেশি ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশের ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজার সামগ্রিকভাবে সংকোচনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মূল্যমানের হিসাবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও জুলাইয়ে রপ্তানি কমার হার বাড়ায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।