বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ওরফে চন্দন কুমার ধরকে দু’টি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রতারণার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকেও জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬শে নভেম্বর পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা দু’টি মামলায় রুল মঞ্জুর করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ৩১শে অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাশসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীদের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬শে নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় দুই ডজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক ওরফে বিদিশা এরশাদকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিনের ফলে বিদিশা এরশাদের কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৫শে আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র ৭ সদস্যের দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও ৫ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল দুই আসামি হলেন- মাসুদ রানা ও লিটন মিয়া। এই মামলায় খালাস পাওয়া বাকি পাঁচ জেএমবি সদস্য হলেন- বিজয়, চান্দু, ইসাহাক, সাখাওয়াত ও সরোয়ার। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ই নভেম্বর রাতে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে গলা কেটে হত্যা করেন জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে এডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০১৮ সালের ১৮ই মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
