গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মত দিয়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তাদের এমন দম্ভোক্তির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান ও অন্য সাতটি মুসলিম দেশ। এর মধ্যে আছে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়, ওই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের এমন যেকোনো উদ্যোগ বা পরিকল্পনা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন ও নিন্দা জানান। এতে বলা হয়, ইসরাইলি মন্ত্রীদের এমন জ্বালাময়ী বিবৃতি ও প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সহ আন্তর্জাতিক সব আইনের মৌলিক নীতিকে ভয়াবহভাবে লংঘন করে।
তারা বলেন, এমন পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি জনতার আইনগত ও অপরিহার্য অধিকারের প্রতি সরাসরি হুমকি। ওদিকে, শনিবার ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ওই অঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের দুই মন্ত্রী গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে উৎখাত করার প্রস্তাব দেয়ার পর তার এই মন্তব্য এলো। অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুরমুস আয়া শহরে সাংবাদিকদের হাকাবি বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, গাজার মানুষকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে উৎখাত করার কোনো ইসরাইলি পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় গাজা ছেড়ে যেতে চান, তাহলে তার সেই অধিকার থাকা উচিত। তবে মানুষকে এমন কোনো স্থানে আটকে রাখা, যেখানে তারা থাকতে চান না, তা একেবারেই লজ্জাজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হাকাবির ভাষায়- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির কোনো প্রস্তাব নেই। ইসরাইলও এমনটি করছে না, যুক্তরাষ্ট্রও করছে না।
তার দাবি, এমন পদক্ষেপকে সমর্থন করেন এমন কাউকে তিনি জানেন না। শহরটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে হাকাবি ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজনও ছিলেন, যাদের স্বজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং এ বিষয়ে ইসরাইল সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর অনেকেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইসরাইল সরকার বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের খুব কম ক্ষেত্রেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং আরও কমসংখ্যক ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার হয়। ওয়াশিংটন এখনো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে এ সহিংসতা নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। হাকাবি নিজেও হামলাকারী বসতি স্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
