ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) সঙ্গে সূচির সংঘর্ষ, তারকা খেলোয়াড়দের দলত্যাগ এবং বিজ্ঞাপনী খরা এড়াতে এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আগামী বছর থেকেই পিএসএলকে জানুয়ারি মাসে নিয়ে আসার জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।
লন্ডনে গত ১লা সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পিএসএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় মূলত এই প্রস্তাবটি তোলে লীগের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালি টেকনোলজিস’। গত দুই মৌসুম ধরে এপ্রিল-মে মাসে টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্যিক সংকটে পড়ে আয়োজকরা।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, পবিত্র রমজান মাসের ঠিক পরের সময়টায় পাকিস্তানের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক বিজ্ঞাপনী বাজেটের একটা বড় অংশই খরচ করে ফেলে। ফলে দর্শকদের বিপুল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন বা টিভি স্বত্বের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পিএসএলের প্রথম ৯টি আসর সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসেই অনুষ্ঠিত হতো। তবে ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে বাধ্য হয়েই টুর্নামেন্টটিকে এপ্রিল-মে উইন্ডোতে সরিয়ে নেয়া হয়।
এর ফলে টানা দুই মৌসুম আইপিএলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পিএসএল। দুই লীগেই খেলার সুযোগ থাকা বিদেশি ক্রিকেটাররা পড়েন বিপাকে। ফলস্বরূপ, পেশোয়ার জালমির সঙ্গে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার করবিন বশ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দেয়ায় তাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ঠিক একইভাবে, ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে বাদ দিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেয়ায় জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি পান দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা।
বিজ্ঞাপনদাতাদের মন জয় করতে এবং খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে চলা এই জটিলতা চিরতরে দূর করতেই এখন জানুয়ারি মাসকেই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে পিএসএল কতৃপক্ষ।
