জ্বালানি সংকট নিরসনে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

জ্বালানি সংকট নিরসনে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

ফন্ট সাইজ:

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎসের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানি করা হবে। শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) আয়োজিত ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বক্তারা আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেশকে তুলে ধরতে সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। এনআরবি’র চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী সভা সঞ্চালনা করেন।

আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে শামা ওবায়েদ বলেন, যেহেতু বর্ডারের ওইপারে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মি বিভিন্নভাবে বিভক্ত, ওখানে বিভিন্ন দেশের স্টেকহোল্ডাররা স্টেক আছেন। সেই জায়গায় চিন্তা করে আমাদের রিজিওনাল যে কমপ্লিকেশন তৈরি হয়েছে ওখানে, আন্তর্জাতিক একটি চাপ না হলে এই সমস্যার সমাধান করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। আপনাদের যার যার জায়গায় যেখানে আছেন, আপনাদের একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিতে যুদ্ধ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা যদি একটি সোর্সের ওপর বেশি নির্ভর থাকি; এনার্জি বলুন বা অন্য কোনো প্রোডাক্ট বলুন, আমাদের অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ পড়ে।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড করার ব্যবস্থা হচ্ছে। আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমরা অত্যন্ত সম্মান করি। এখানে সমস্যা হচ্ছে, প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ যান- বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, ইউএই, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইতালি, ইউরোপেও আছেন। কিন্তু অবৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আমি খুবই ক্লোজলি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছি আইওএম ও যারা অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন তাদের সঙ্গে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এই জায়গায় কাজ করছি এবং সেই জায়গাটায় প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়েছেন। আমরা স্কিলড লেবার পাঠাতে চাই। ভোকেশনাল ট্রেনিংসহ আমাদের যেসব স্কুলগুলো আছে সেগুলো আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছি, যাতে লিগ্যালি আমরা পুরুষ এবং নারী স্কিলড লেবার পাঠাতে পারি বৈধ উপায়ে। তারা গিয়ে যাতে সম্মানজনক কাজ করতে পারেন এবং বাংলাদেশের সুনামও যাতে থাকে।
আলোচনায় সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন। আমাদের উচিত এই বছরের সুযোগটা নেয়া।

পূবালী ব্যাংকের সিইও মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মাধ্যমে একটি উইং ছিল যেটা ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ বলে পরিচিত। সেই এসএমই ইন্টারপ্রেনারের ক্ষেত্রে- বিশেষ করে উইমেন ইন্টারপ্রেনার; গ্রামের ক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম ইন্টারপ্রেনার নারী তাদের রিপেমেন্টও খুব ভালো। সেখানে ওয়ান প্রোডাক্ট ওয়ান ভিলেজ- এই জায়গায় ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি কাজ করছে। এটাকে আমি একটি পজিটিভ দিকে দেখছি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয় আমরা যদি প্রতিটি প্রোডাক্ট লোকালি এবং ইন্টারন্যাশনালি ব্র্যান্ডিং করতে পারি, এক্সপোর্টের দিকে তাদেরকে নিয়ে যেতে পারবো। ব্যাংকিং সেক্টর যেভাবে যে ডিফর্মের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে, নেগেটিভ যে ইমেজগুলো তৈরি হয়েছে, সেই জায়গাগুলো আমরা অতিক্রম করতে পারবো এতে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের ইকোনমি অনেক বড়। ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। বাংলাদেশের ইকোনমি হচ্ছে ওয়ার্ল্ডের ৩১ বা ৩২তম। কিন্তু যখন পাসপোর্টের ইস্যু আসে, তখন গিয়ে আমরা এটা রেসিপ্রোকেট করে না। অর্থাৎ আমাদের পাসপোর্ট ইনডেক্সিংটা ৯৭, অনেকটা উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি। আমাদের ইকোনমির সঙ্গে পাসপোর্টের স্ট্যান্ডিং অবশ্যই রেসিপ্রোকেট করতে হবে এবং সেটার জন্য দরকার একটা দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে আমাদের দেশের রেপুটেশন বাড়িয়ে আমাদের প্রোফাইলকে হাইলাইট করতে হবে।

এফএসডিএস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান, গুম কমিশনের সদস্য মো. নুর খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ, লায়ন্স গভর্নর ডা. খন্দকার মাযহারুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শিল্পপতি মানওয়ার হোসেন প্রমুখ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।