মাগুরায় কর্মকর্তা-ডিলার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ কৃষকের

সারের তীব্র সংকট

মাগুরায় কর্মকর্তা-ডিলার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ কৃষকের

ফন্ট সাইজ:

মাগুরায় চলতি আমন মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। কৃষকদের অভিযোগ, সরবরাহ ঘাটতির চেয়েও প্রশাসনিক গাফিলতি, দুর্বল তদারকি এবং ডিলার সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার ৭ নম্বর মঘী ইউনিয়নের মঘী তিন রাস্তার মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার নিমাই চন্দ্র পালের গোডাউনের সামনে শনিবার শত শত কৃষককে সার সংগ্রহের জন্য ভিড় করতে দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার না পেয়ে চরম হতাশায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকার সুযোগে একটি অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে। এই চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে একশ্রেণির ডিলার সার কালোবাজারি করছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত করছে। সারের ঘাটতির কথা স্বীকার করে মহম্মদপুরের ডিলার মেসার্স সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বদরুল হাসান অপু জানান, ডিএপি সারের সাময়িক সংকট রয়েছে, তবে দু’-এক দিনের মধ্যে নতুন চালান আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

জানা গেছে, জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮১ হাজার ৭৬২ হেক্টর। চলতি আমন মৌসুমে ৬১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসে ইউরিয়ার চাহিদা ৪ হাজার ৫৭৫ টন, টিএসপি ৭৩৫ টন, ডিএপি ৮৩৭ টন এবং এমওপি’র চাহিদা ৭৬৩ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাগুরার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. আজম উদ্দিন বলেন, আগস্ট মাসে ৪ হাজার ৯১১ টন সার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল এবং চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় অগ্রিম উত্তোলনের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে কৃষকদের কাছ থেকে সারের সংকট নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

মুঘী এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সময়মতো সার দিতে না পারলে পরিচর্যা ব্যাহত হবে, যা সরাসরি সার্বিক ধানের উৎপাদনে ধস নামাবে। সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি এবং পুরো প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক এস. এম. মাহবুবুর রহমান জানান, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার ২১০ জন ডিলার গত ছয় মাসে প্রায় ২৬ হাজার ৭০০ টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া সার শতভাগ উত্তোলনও করা হয়েছে। সারের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।