বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের উপর লোহার সেতুটি গত বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ভেঙে খালে পড়ে যায়। সেতু ভেঙে পড়ায় তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সেতু ভেঙে পড়ায় তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক ও তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়েছে মহাবিপাকে। তারা এখন নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে। তাই নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা (তৎকালীন) প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী গ্রামের সংযোগ স্থাপনের জন্য বগীরদোনা খালের উপর ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি লোহার সেতু নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। সেতুটি ভেঙে খালে পড়ায় মৌরুভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদারপাড়া, বড়াইতলীসহ চার গ্রামের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি, রেহেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা নৌকায় পার হচ্ছি। মৌরুভী পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত আমরা এখানে একটা সেতু নির্মাণের দাবি করছি।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
