ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করে শাখা ছাত্রশিবিরের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ ছাড়াও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধান ফটকে তালা দেয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিবির নেতা কাজী জুহায়ের হলের করিডর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত আলীনুর সঙ্গে দেখা হলে জুহায়েরকে থাপ্পড় মারেন তিনি। এ সময় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনুরকে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে হলের ২১৭নং কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে প্রভোস্ট কক্ষে ছাত্রদল-শিবির নেতারা সমাধানের জন্য বসলেও শিবির নেতারা তা মেনে নেয়নি। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসন এসে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে কক্ষ থেকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদল নেতা আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিবির নেতা কাজী জুহায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমি পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এ সময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিল না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানি না। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে, “তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।” অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেয়। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তবে তার সঙ্গে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না।
প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয়পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধান করার চেষ্টা করছি।
