নগরের খুলশী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াকিল হোসেন বগা (৪২)কে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বগাকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে খুলশী থানা পুলিশ। মামলায় বাকি ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় ওসিসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে বগা ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে দূর থেকে মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। এ সময় তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি ভিডিওতে ওসি আব্দুর রহিমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বগা একটি বাসার ভেতরে থাকা গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার তদন্তেও বগার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় খুলশী থানায় পৃথক মামলা রয়েছে। নতুন মামলাসহ বগার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর আগে গত ৯ই জুলাই বগার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু মানবজমিনকে বলেন, বগা বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না।
খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম বলেন, বগার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালালে তার সহযোগীরা বাধা দেয় এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পলাতক বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
