সাভারে পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পর্যায়ক্রমে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান। এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় গত ২৬শে আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বড়াইবাড়ী এলাকার তাহমিদ হাসান রাফি (১৫), বরগুনার বেতাগীর মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম (১৩), জামালপুর সদর থানার মোহাম্মদ বিন মুক্তার (১২), ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২১) এবং সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মো. কামরুল ইসলাম (২৬)। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনায় মামলার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে ঢাকা জেলা পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সাভার ও আশুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কালিয়াকৈরের বড়াইবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মামলার প্রধান রাফিকে, বরগুনার বেতাগীর নানার বাড়ি থেকে সায়েমকে, সাভারের চাপাইন তালতলা এলাকায় বাবার ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ বিন মুক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে মাওলানা জাবের হোসেন এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত দুই শিক্ষককে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হবে এবং গ্রেপ্তার ৩ শিক্ষার্থী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদেরকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার কিশোর সংশোধন কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
