একসময় ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর থাকতো উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী দারোগা বাজার। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ছুটে আসতেন এ বাজারে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। নানা অব্যবস্থাপনা, বাড়তি হাসিল আদায় ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে ক্রেতা হারাচ্ছে বাজারটি। বিশেষ করে মাছ বাজারে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ইজারা ও হাসিল আদায়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বাজারে নেই নির্দিষ্ট কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণেরও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে মাছ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে শৌচাগারের সংকট।
দারোগা বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আরমান, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত উল্লাহ জানান, বাজারে শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী প্রতিদিন বেচাকেনা করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়ী নয়, বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদেরও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বাজারে প্রতিদিন ইজারা ও হাসিল আদায় করা হলেও তার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা মিলছে না। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসন ও ইজারাদারকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যে। তাদের দাবি, বাড়তি হাসিলের চাপ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাজারে বেচাকেনা বাড়তে পারে।
পাশাপাশি দ্রুত শৌচাগার নির্মাণ, ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ এবং স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা প্রয়োজন। স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এলেও পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেকেই অন্য বাজারমুখী হচ্ছেন। ফলে একসময় জমজমাট থাকা দারোগা বাজার ধীরে ধীরে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে রাজাপালং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান বলেন, বাজারে বর্তমানে ৫ তলা একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাজারের যেসব দুর্ভোগ রয়েছে, সেগুলো একসঙ্গে নয়, ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
