গেজেটে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না থাকার সুযোগে পাম্প মালিকরা ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বেশি টাকা। দীর্ঘদিন থেকে এভাবে পঞ্চগড় জেলাসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিবহন ভাড়ার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এক জ্বালানি ক্রেতা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পঞ্চগড় জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশন ও বিভিন্ন হাট-বাজারের ক্ষুদ্র তেল বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে। তথ্যমতে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে লিটারপ্রতি অতিরিক্ত ০ দশমিক ৬৮ টাকা (৬৮ পয়সা) এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার পাম্পগুলোতে ১ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত বেশি নেয়া হচ্ছে। দূরত্ব ভেদে অন্যান্য পাম্পগুলোতেও জ্বালানি তেলের মূল্য বেশি নেয়া হয়।
তেঁতুলিয়ায় তেল নিতে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়টি টের পান মুস্তাক আহমেদ নামে স্থানীয় এক ক্রেতা। পাম্প মনিটর দেখে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পাম্প ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তিনি এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। মুস্তাক আহমেদ বলেন, মালিক পক্ষ বলছে গেজেট অনুযায়ী দূরত্বভেদে পরিবহন ভাড়ার কারণে বেশি মূল্য নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার তো ডিলার বা এজেন্টদের এই ভাড়ার টাকা মেটাচ্ছে বা বহন করছে। তাহলে আমাদের সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে কেন নেয়া হবে? গত কয়েক বছরে ক্রেতাদের পকেট থেকে এভাবে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে পাম্প মালিকরা। আমরা এই টাকা ফেরত দেয়ার দাবির পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জানা যায়, গেজেটে উল্লেখ রয়েছে ৯ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি ট্যাংলরি প্রথম ৪০ কিলোমিটারের জন্য ডিজেলের মূল্যের ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য আধালিটার ডিজেলের হারে একই শতাংশ হারে পরিবহন ভাড়া পাবে। গেজেটে পরিবহন ভাড়া ক্রেতা, বিক্রেতা নাকি সরকার পরিশোধ করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে পাম্প মালিকরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের রংপুর অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হিরণ বলেন, ২০২৩ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বরের সরকারি গেজেট অনুসরণ করেই দূরত্বভেদে অতিরিক্ত এই টাকা নেয়া হচ্ছে। রংপুর বিভাগের প্রায় সব পাম্পেই একইভাবে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি এতদিন অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক এ এস এম মাসুম-উদ-দৌলা। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ ও সার্বিক বিষয় অনুসন্ধানের জন্য পাম্প মালিক সমিতির নেতাদের ডাকা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
