দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীমের লাশ তুলে দরবারে দাফন, পুনঃস্থাপন করলেন পুলিশ

দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীমের লাশ তুলে দরবারে দাফন, পুনঃস্থাপন করলেন পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের কবরস্থানে দাফন করা লাশ দীর্ঘ ৫ মাস পর কবর থেকে তুলে তার দরবারে বা আস্তানায় দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দিবাগত গভীরাতে পীরের ভক্তরা শামীমের লাশ কবর থেকে তুলে দরবারে নিয়ে দাফন করেন বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরবার বা পীরের আস্তানা থেকে পীরের দাফন করা লাশ তুলে বিকাল ৫টায় পুনরায় কবরস্থানে নিয়ে নিজ কবরে পুনঃস্থাপন করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, পীর শামীম নিহতের পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে দাফনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এ কারণে পীরকে দাফনের পর বেশ কিছুদিন ওই কবরস্থানে পুলিশ পাহারায় ছিল। তবে গতকাল দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ভক্তরা কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে পুনরায় দাফন করেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, লাশ তুলে দরবারে দাফন করা হয়েছে- এমন খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দরবার থেকে লাশটি উত্তোলন করে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন বা পুনঃস্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে লাশটি আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ই এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় কিলার রাজীব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে। নিহত পীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ই এপ্রিল বিকালে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ই এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।