আশুলিয়ায় নবজাতকসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত দম্পতির পরিচয় পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে নিহত নারীর বোন শাপলা বেগম তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়া গ্রামের নাজমা আক্তার (৩৩) ও তার স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)। এর মধ্যে নিহত নাজমা আক্তার স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং তার স্বামী হকারি করে বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করতেন।

জানা গেছে, গত ৯ই আগস্ট আলমগীর ও নাজমা দম্পতি জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। গত তিনদিন ধরে তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার আশপাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা সেখান থেকে পচা গন্ধ পেয়ে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানান। প্রথমে বিড়াল মারা গিয়ে পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করেছিলেন ভবনটির মালিক। কিন্তু পরে গন্ধ তীব্র হওয়ায় মালিক ও ভাড়াটিয়ারা শুক্রবার রাতে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীর দম্পতির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। একই সঙ্গে একটি সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহও পড়ে থাকতে দেখে পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। স্থানীয় একাধিক ভাড়াটে জানান, কক্ষটি ভাড়া নেয়ার সময় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নিহত নারীর বোন শাপলা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে নাজমার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল।

আমরা দুই বোনই একই কারখানায় চাকরি করি। শনিবারও সে অফিসে যায়নি। তখন ভাবছিলাম, আমার বোন তো পোয়াতি, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে, তাই কাজে আসেনি। শাপলার দাবি, তার বোন ও দুলাভাইকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার বোনের সন্তানটি হয়তো পেট থেকে বেরিয়ে গেছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়। এ সময় আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও পরিস্থিতি দেখে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে তারা আত্মহত্যা করেছে নাকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।