উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদান ‘উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম। শুক্রবার ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম-২০২৬ (ইইএফ) এর সাইডলাইনে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশার কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশি এই কূটনীতিক বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর জন্য ব্রিকস একটি খুব ভালো প্ল্যাটফর্ম হবে। ঢাকা এই জোটে যোগ দিলে তা ‘উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক’ হবে।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, বাংলাদেশ যেহেতু গ্লোবাল সাউথের একটি বড় অঞ্চল, তাই বাংলাদেশ ব্রিকসে যোগ দিলে ব্রিকসও উপকৃত হবে। নজরুল ইসলাম জানান, ইইএফ সম্মেলনে রাশিয়ার তেল ও এলএনজি সম্পদ কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।
স্পুটনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ চালু হওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
সংক্ষিপ্ত ওই সাক্ষাৎকারে মক্কা জোটে ঢাকার যোগদানের বিষয়েও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত নাজরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার ভাষ্য, যেহেতু এটি মুসলিম দেশগুলোর জোট, তাই সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। এছাড়া জোটের প্রতিটি দেশের সঙ্গে ঢাকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খুব ভালো।
প্রসঙ্গত, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় পারস্পরিক সামরিক চুক্তি। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
