কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজারে ওহাব হোটেলের মালিক আব্দুল ওহাব মিয়া ও তার ছেলে ইসমাইলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
গতকাল বিকেল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আব্দুর রহিম, নুরুসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আব্দুর রহিম ও নুরু এলাকার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ যেসব অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে তারা দাবি করেন। বক্তারা জানান, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীরা পরস্পরের চাচা ভাতিজা সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সামান্য বিকাশের ৪৫০ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে রবিউলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি আব্দুর রহিম ও নুরুর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে গড়ায় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধনে আহত আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, অন্য মানুষের তুচ্ছ একটি ৪৫০ টাকা বিকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে ও আমার ভাইকে ওহাব হোটেলের সামনে মারধর করা হয়েছে। এতে আমরা দুজনই আহত হয়েছি। অথচ পরবর্তীতে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।”
এলাকাবাসীর কয়েকজন অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
বক্তারা আরও বলেন, তাদের মূলত হঠাৎ টাকা হয়ে যাওয়ায় লালমাই বাজারে ও দোকানের কাস্টমারদের সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে।
মানববন্ধনে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ওহাব মিয়া ও তার ছেলে ইসমাইলের বিরুদ্ধে মারধর, গালাগালিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ওহাব মিয়া ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন কয়েকজন বক্তা।
এদিকে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হলে এলাকায় চলমান উত্তেজনা কমবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে ভুক্তভোগীরা নিজেদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, অপপ্রচার বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
