ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে দেশটিতে ডিজেলের দামও পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল মূলত ট্রাক, ট্রেন, নৌযান, বাস, কৃষি ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যানবাহনে ব্যবহার করা হয়।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম এখন ৫.৮৫ ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল গড়ে ৩.৭১ ডলার।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর যে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল, বর্তমান দাম সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে জ্বালানির দামের এই ঊর্ধ্বগতি আগামী নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে জ্বালানির দাম একই হারে বাড়েনি। এএএর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম অন্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ করের পার্থক্য এবং দেশটির তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে এসব রাজ্যের দূরত্ব।
উদাহরণ হিসেবে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম এখন ৬.৮১ ডলার। এক বছর আগে সেখানে এই দাম ছিল ৫.০৩ ডলার। শুধু ডিজেলের দামই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও ঐতিহাসিকভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.১৫ ডলার, যেখানে এক বছর আগে তা ছিল ৩.২০ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। এর পেছনে পাইকারি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন কাজ করছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি তেল চুক্তির মাধ্যমে “সব আমেরিকানের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
