২৫ বছর পরও বিস্ময় ব্রিটনির সেই কিংবদন্তি পারফরম্যান্স

২৫ বছর পরও বিস্ময় ব্রিটনির সেই কিংবদন্তি পারফরম্যান্স

ফন্ট সাইজ:

২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ২০০১ সালের এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের (ভিএমএ) সেই পারফরম্যান্স এখনো পপ সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। ‘আই’ম আ স্লেভ ৪ ইউ’ গানটি নিয়ে তার সেই পরিবেশনায় ছিল চোখধাঁধানো পোশাক, দুর্দান্ত নৃত্য, জীবন্ত বাঘ এবং কাঁধে জড়ানো একটি অ্যালবিনো বার্মিজ অজগর।

সময়টা ছিল ২০০১ সাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সী ব্রিটনি স্পিয়ার্স তখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা। তার ‘উপস!... আই ডিড ইট এগেইন’ অ্যালবাম ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর নতুন গান প্রকাশ নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশাও ছিল তুঙ্গে। সেই প্রত্যাশাকে আরও বড় করে তিনি নতুন গান ‘আই’ম আ স্লেভ ৪ ইউ’ প্রথমবারের মতো সরাসরি মঞ্চে পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসে অনুষ্ঠিত ভিএমএ মঞ্চে ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে দেখা যায় সোনালি ধাতব খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসতে। খাঁচার ভেতরে ছিল একটি সাদা বাঘ। তার পরনে ছিল শ্যাওলা-সবুজ রঙের ব্রা-সদৃশ টপ, অ্যাকোয়ামেরিন রঙের শর্টস এবং ঝলমলে পাথরখচিত বুট। চারপাশে ছিলেন পশুর আদলে সাজানো নৃত্যশিল্পীরা।

তবে পারফরম্যান্সের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে শেষে। প্রায় ৭ ফুট লম্বা ও ২০ পাউন্ড ওজনের অ্যালবিনো বার্মিজ অজগর ‘বানানা’কে কাঁধে জড়িয়ে নাচেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। মুহূর্তটি এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি করে যে পরবর্তী দুই দশকেও এটি পপ সংস্কৃতির অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হিসেবে টিকে আছে।
এই পরিবেশনার পোশাক তৈরি করেছিলেন ডিজাইনার কার্ট সোয়ানসন ও বার্ট মুলার। তাদের নকশায় ছিল উজ্জ্বল জঙ্গল-অনুপ্রাণিত রং, সিল্ক শিফন ও অসংখ্য স্বরোভস্কি ক্রিস্টালের ব্যবহার। পোশাকের প্রতিটি অংশই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। নকশায় ফ্রাঙ্ক ফ্রাজেটা ও বরিস ভ্যালেহোর জঙ্গল-যোদ্ধা রাজকন্যাদের চিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী বেলি ড্যান্সের প্রভাবও ছিল।

তবে পোশাক তৈরির সময় ডিজাইনাররা জানতেন না যে মঞ্চে একটি জীবন্ত বাঘও থাকবে। অনুষ্ঠানের দিন টেকনিক্যাল রিহার্সালেই তারা প্রথম বন্য প্রাণীটির সঙ্গে কাজ করেন। বাঘটির প্রশিক্ষক ছিলেন ভগবান ‘ডক’ অ্যান্টল। পরে ‘টাইগার কিং’ অনুষ্ঠানে পরিচিতি পাওয়া অ্যান্টল মঞ্চে বাঘের সঙ্গে কীভাবে নিরাপদে থাকতে হবে, সে বিষয়ে সবাইকে নির্দেশনা দেন।

ব্রিটনি স্পিয়ার্সের প্রধান কোরিওগ্রাফার ওয়েড রবসন বাঘটির দৃষ্টিসীমা বিবেচনায় নিয়ে মঞ্চের বিন্যাসে পরিবর্তন আনেন। একই সঙ্গে বাঘটি যাতে মঞ্চে ক্ষুধার্ত না থাকে, সে জন্য অনুষ্ঠানের আগে তাকে কাঁচা মাংস খাওয়ানো হয়েছিল বলে সেট ডিজাইনার রে উইঙ্কলার জানিয়েছেন।

এই পারফরম্যান্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এর সময়কাল। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না, আর দর্শকদের হাতে এমন স্মার্টফোনও ছিল না যা দিয়ে মুহূর্তেই কোনো লাইভ পারফরম্যান্স ধারণ ও ছড়িয়ে দেয়া যায়। ফলে অনুষ্ঠানটি কীভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে, তার ওপর এমটিভি ও নির্মাতা দলের প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।

উইঙ্কলারের মতে, এই ‘একবারই দেখা যাবে’ ধরনের অভিজ্ঞতাই পরিবেশনাটির প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

দীর্ঘদিনের কোরিওগ্রাফার ব্রায়ান ফ্রিডম্যানও মনে করেন, ওই সময় স্পিয়ার্স ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন শিল্পী।

তার মতে, ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে অনেকেই ‘তৈরি করা পপ তারকা’ বা ‘পুতুল’ হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। মঞ্চে থাকা, নাচের মহড়ায় ঘাম ঝরানো এবং পারফরম্যান্স তৈরি করা তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন।
তবে আজকের ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবনের সঙ্গে সেই সময়ের বড় পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘ কনজারভেটরশিপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ২০২৩ সালের স্মৃতিকথা ‘দ্য উইমেন ইন মি’-তে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন, এখন আর মঞ্চে পারফর্ম করার ইচ্ছা নেই।
লেখক ও সংস্কৃতি সমালোচক অ্যাম্বার হর্সবার্গের মতে, ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সেই পারফরম্যান্সের মতো মুহূর্ত আবার তৈরি হওয়া কঠিন। কারণ তখন এমটিভি ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং কোটি মানুষ একই সময়ে একই অনুষ্ঠান দেখত।

২৫ বছর পরও তাই ‘বানানা’কে কাঁধে নিয়ে নাচতে থাকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সেই দৃশ্য শুধু একটি পুরোনো পারফরম্যান্স নয়; এটি পপ সংগীত, ফ্যাশন, টেলিভিশন ও তারকাখ্যাতির এক বিশেষ যুগের প্রতীক হয়ে আছে।