‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর

বিয়ের আসরে মার্কিন হামলা

‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর

ফন্ট সাইজ:

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের ছোট শহর কুহেস্তাকে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বালুচ-অধ্যুষিত শহরটিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের স্বজন ও বন্ধুরা অপেক্ষা করছিলেন, আর মেহেদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও অতিথি আসার কথা ছিল। এর মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িটির একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, বিয়ের ফুলের মালা ও সাজসজ্জার সামগ্রী। কোথাও পড়ে আছে রক্তমাখা জুতা। স্থানীয়দের প্রকাশ করা এসব ভিডিওতে হামলার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক আলি মাল্লাহি একজন জেলে। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে অতিথিদের জড়ো করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক ভিডিওতে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।

হামলার পর কুহেস্তাকজুড়ে নেমে এসেছে শোক। স্থানীয় এক নাপিত আহমাদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিয়ের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের বহু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে প্রতিবেশীরাও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ছোট। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি, ভাইয়ের মতো। আমরা সবাই শোকাহত।’ আরেক পর্যায়ে তার কণ্ঠে উঠে আসে ক্ষোভ ও হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা বহন করছি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ।’

বালুচ মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা এবং বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন।
বালুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, নিহতরা ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আনন্দের একটি দিনে তাদের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য ‘অকল্পনীয় শোক’ বয়ে এনেছে।
মাকরান উপকূলের ৩৫ বছর বয়সী জেলে চাকর বালুচ বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী। আমরা উপকূলের মানুষ। বছরের পর বছর সমুদ্রে যাই, জীবিকার জন্য সংগ্রাম করি এবং শুধু বেঁচে থাকতে চাই।’

সিরিকের এক বালুচ বাসিন্দার প্রশ্ন আরও তীব্র- ‘আমি কার কাছে জবাব চাইব? এই যুদ্ধে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে? নাকি যে শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে আমাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে?’