গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে এ লংমার্চ শুরু হবে। এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বশেষ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ক্ষমতাসীন দল সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রশাসন, আমলাসহ অন্যান্য সংস্থা তাদের অধীনে রয়েছে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।’
লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সরকার ও সরকারি দলের কেউ জনগণের আস্থা হারাবে বলে সতর্ক করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাচ্ছেন, আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হবে। আশা করি, এরকম কোনো অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দলের কেউ পা বাড়াবে না।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ না নেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
