সহযোগীদের খবর

সরকারের খরচের চাপ বাড়ছে, আয় সীমিত

ফন্ট সাইজ:

সরকারের খরচের চাপ বাড়ছে, আয় সীমিত। প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারের খরচ কয়েক দিক থেকে বেড়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন, দেশি-বিদেশি ঋণ শোধ, ভর্তুকি ও জ্বালানি ব্যয়ের বাড়তি চাপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসূচি ও বড় কেনাকাটা। ফলে বাজেটের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে এমন খাতে, যেখান থেকে সরকারের সরাসরি কোনো আয় নেই। অন্যদিকে খরচের এসব চাপ সামাল দেওয়ার জন্য সেই হারে আয়ও বাড়ছে না।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ৪২ শতাংশই বরাদ্দ রাখা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন, ঋণের সুদ এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনার মতো খাতে। তিন খাতেই বরাদ্দ প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। বছরজুড়ে সরকার যত খরচ করবে, এর অর্ধেকের কাছাকাছি খরচ করতে হবে বেতন–ভাতা, ঋণ শোধ ও ভর্তুকি দিতে।
নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে শুধু এ খাতেই সরকারের বাড়তি খরচ হবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়ে জ্বালানি পণ্য ও সার আমদানির খরচ সামাল দিচ্ছে সরকার।
চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দরকার ৪৫ শতাংশ, যা অতীতের অর্জনের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একদিকে বাড়ছে ব্যয়ের দায়, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না আয়। এই দুইয়ের চাপে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনীতিবিদেরা পরামর্শ দিয়েছেন, আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হওয়ায় সরকারের খরচ কমাতে ব্যয় খাত পর্যালোচনা করা দরকার।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের সাধারণ খরচের সঙ্গে জ্বালানি খাতের অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়েছে। নতুন বেতন–ভাতা, ঋণের দায়দেনা শোধেও খরচ বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে (অতীতের সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন খাতের পুঞ্জীভূত সমস্যা)
সরকারের খরচের চাপ বাড়ছে, আয় সীমিত
পাওয়া সমস্যা—অর্থনীতিতে এখন এই দ্বিমুখী চাপ আছে। সামষ্টিক অর্থ ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অন্য যেকোনো সময়ের বেশি প্রতিকূল অবস্থায় আছে অর্থনীতি।
মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, সতর্কতার সঙ্গে খরচের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা বাড়বে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন বেতনকাঠামোর বাড়তি খরচ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে খরচ কিছুটা কম হবে। কারণ, চার ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি অর্থবছরে গ্রেডভেদে চাকরিজীবীরা দুই দফায় নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৭০-৭৫ শতাংশ পাবেন। এ জন্য এ বছর খরচ কত বাড়বে, এখন তা ঠিক করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বাজেটের দলিল অনুসারে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। আর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি খাতে বরাদ্দ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন বেতনকাঠামোর কারণে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি খাতেও খরচ বাড়বে।
তেল-গ্যাস আমদানি খরচ বেড়েছে
গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নানামুখী সমস্যার মধ্যে আছে। সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন সীমিত হয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ নানা কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। বাড়তি দাম এবং আমদানি উৎসের সংকটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ধরে রাখতে বাড়তি খরচ করেই আমদানি করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরকারের বকেয়া ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আবার এলএনজির দাম বেড়েছে, আমদানিও কমেছে। গত জুলাই-আগস্টে ১৫ জাহাজ এলএনজি এসেছে। গতবার একই সময়ে ২১ জাহাজ এলএনজি এসেছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০ জাহাজ এলএনজি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮টির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। কয়েক দিন আগে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ২২ থেকে ২৪ ডলার। এখন তা ২৮ ডলারে উঠেছে। ইরান যুদ্ধের আগে এই দাম অর্ধেক ছিল।
সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারের বাড়তি খরচ হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ বছরের বাজেটের নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাম ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে।’ ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০-৭৫ ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ ডলারে।
১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা
জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে সরকার। চলতি অর্থবছরে সরকারকে ৮৯ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ রাখা আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বাড়ছে। এতে খরচ আরও বেড়েছে।
কৃষকের স্বার্থে সারে ভর্তুকি দেয় সরকার। প্রতিবছর ৬৭ লাখ টন সারের চাহিদা আছে। ৮০-৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ওই অঞ্চলের সারের কারখানাগুলো কোনোটি বন্ধ আছে, কোনোটির উৎপাদন সীমিত আছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সারের দাম বেড়েছে। এ জন্য সরকারকে বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সার আমদানির জন্য ৩০ কোটি ডলার জরুরি বাজেট সহায়তা নিয়েছে সরকার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে ৬ লাখ টন সার আমদানি করবে বাংলাদেশ।
সার ছাড়াও তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য ৭১ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা নিয়েছে সরকার। গত জুন মাসেই ওই অর্থ ছাড় হয়েছে।
২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেসিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তেল, গ্যাস ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশকে ২৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে, যা বর্তমান বাজারদরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। ওই ঋণের ৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ সরকার দেবে। এ জন্য সরকারকে বাড়তি বরাদ্দ রাখতে হবে।
নতুন পরিকল্পনা, বাড়তি খরচ
বর্তমান বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে বিভিন্ন সুবিধা দিতে কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় হলো ফ্যামিলি কার্ড।
ইতিমধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার এই কার্ড পাবে। এ জন্য প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
এ ছাড়া কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ডও প্রচলনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ১২ থেকে ১৩ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এতে সরকারের খরচ হবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
উড়োজাহাজ কেনায় খরচ
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনছে। গত এপ্রিলে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের কাছে আরও ১১টি উড়োজাহাজ বিক্রির ঘোষণা দেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।
বোয়িংয়ের সঙ্গে গত এপ্রিলে চুক্তি হওয়া ওই ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩৭০ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ২০৩৭ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ আসবে। ওই পর্যন্ত সরকারকে উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। প্রতিবছরই আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। এখন নতুন করে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার খরচও বাড়ল।
ঋণ শোধের চাপ বাড়ছে
সরকার দেশ-বিদেশ থেকে ঋণ করে বাজেটের ঘাটতি মেটায়। সেখানেও চাপ বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ শোধ বেশ বেড়েছে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ঋণ শোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। বিদেশি ঋণ শোধ বাড়ছে প্রতিবছর গড়ে ৫০ কোটি ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ বছরে বিদেশ ঋণ শোধ চার গুণ বেড়েছে।
অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকার দেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে অর্থের জোগান দেয়। এসব ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়। বাজেটে সুদ বাবদ বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়।
সরকার চলতি অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা আগের বছরের ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
আয় বাড়াতে সরকার কী করছে
বাড়তি খরচ জোগাতে সরকারের অন্যতম আয়ের উৎস রাজস্ব আয়। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিবছরই বড় ঘাটতি থাকে। এ বছর বাড়তি খরচের চাহিদা থাকায় রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য আদায়ে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে এনবিআরকে। এনবিআর কখনো রাজস্ব আদায়ে এত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেনি। গত ৫ বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয় ২০২১-২২ অর্থবছরে, যা ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ।
দীর্ঘদিন পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগও থমকে আছে। এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ বিএনপি সরকার পাস করেনি। রাজস্ব খাত সংস্কার পর্যালোচনা করতে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি এখনো কোনো প্রতিবেদন দেয়নি।
এদিকে ২৩ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এনবিআরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, উপজেলা পর্যন্ত করজাল বিস্তৃত করা, কর ব্যবস্থাপনার অটোমেশনসহ নানা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এখন ৭ শতাংশের আশপাশে আছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে কর-জিডিপি অনুপাতের দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ।
সরকার কী বলছে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই কারণেই সরকারি ব্যয় বাড়ছে। কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল আসতে পারছে না। ফলে স্পট বাজার থেকে কিনতে গিয়ে তেলের দাম পড়ছে বেশি। আর সারের মূল্যবৃদ্ধিসহ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নানামুখী প্রভাব তো আছেই। আর অভ্যন্তরীণ কারণের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ব্যয় ইত্যাদি রয়েছে।
অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির ব্যাপক পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি টাস্কফোর্স। কর পরিহার, কর জালিয়াতি, কর অব্যাহতি বিষয়ে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। সঠিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনাকেও যথাযথ করা হচ্ছে। ফলে অর্থায়ন নিয়ে আপাতত কোনো চিন্তার কারণ নেই।

যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম- বিশ্বজুড়ে বাড়বে বহুমুখী সংকট। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধপরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে বহুমুখী সংকট ততই বাড়ছে। গত কয়েকদিন থেকে ফের নতুন করে বাজছে যুদ্ধের দামামা। পালটাপালটি একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানাভাবে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এসবে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান। বরং ইরানের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান প্রতিটি হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে। তোপ দাগছে তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র খেইবার, খোররামশাহর, সেজ্জিল, ফাত্তাহ ও খেইবার শেকান। ইরানের হাতে আরও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ অবস্থায় সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতোমধ্যে এই যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকলে বাংলাদেশসহ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বাড়বে মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের সুদের হার ও বেকারত্ব।
এর আগে অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে টানা ১৪ দিন হামলার পর গত জুলাইয়ের শেষদিকে ইরানে হামলা বন্ধের আকস্মিক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর এক মাস তিনি ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেন।
তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, তারা তেহরানকে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে যাচ্ছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তখন প্রচার শুরু করে- সংঘাত অর্থনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ইরানে আবারও হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল না থাকায় দোদুল্যমান নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ট্রাম্প। এতে দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা এতটাই কমেছে যে, জন-অনুমোদনের হার মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি মার্কিন ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত ইরান সফলভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানছে। তাদের আছে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র খেইবার ও খোররমশাহর। সেজ্জিলের মতো ক্ষেপণাস্ত্র চলতে প্রয়োজন হয় না তরল জ্বালানির। আছে ফাত্তাহ ও খেইবার শেকান। পাশে আছে রাশিয়া ও চীনের স্যাটেলাইট সহায়তা। এ কারণে নির্ভুল আঘাতে জর্জরিত মার্কিন স্থাপনা, এক সময় যা ছিল কল্পনাতীত। ইরানের হাতে আরও শক্তিশালী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র থাকার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে।

পোলাওর চালের দাম দ্বিগুণ, রপ্তানি নাকি কৃত্রিম সংকট? ইত্তেফাকের শিরোনাম । এই খবরে বলা হয়, একসময় ঘরোয়া আয়োজনের স্বাভাবিক খাবার ছিল পোলাও। এখন সেই পোলাওর চাল কিনতেই কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দাম বাড়ার এই ধাক্কায় শুধু পরিবার নয়, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েছেন। কিন্তু এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেন, এক বছরের ব্যবধানে পোলাওর চালের দ্বিগুণ রপ্তানির অনুমোদন নাকি কৃত্রিম সংকট?
বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আরেক অংশের অভিযোগ, বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ধান-চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। আবার রপ্তানিকারকদের দাবি, উত্পাদন ও চাহিদার তুলনায় দেশে সুগন্ধি চালের পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাই অল্প পরিমাণ রপ্তানির কারণে এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি এবং খোলা চাল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও কোনো কোনো প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও খোলা পোলাওর চাল ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এক মাস আগে ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির বস্তা ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৯ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাত্ এক মাসেই বেড়েছে ২ হাজার টাকা।
কেন বাড়ছে দাম?
পোলাওর চাল মূলত ব্রি-৩৪ বা চিনিগুঁড়া ধান থেকে উত্পাদিত হয়। দিনাজপুরে এই ধানের বড় অংশ উত্পাদিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দিনাজপুরে মোট ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬০ হেক্টর। এর মধ্যে চিনিগুঁড়া চাষ হয়েছে ৯৫ হাজার হেক্টর, গত বছর যা ছিল ৯৪ হাজার হেক্টর। তবে বাজারে চালের দাম বাড়ার
ব্যাখ্যায় একাধিক কারণ সামনে এসেছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানির অনুমোদন পাওয়ার পর দেশীয় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই বিপুল পরিমাণ ধান কিনে মজুত করেছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। পরে ধানের দাম বাড়ার কথা বলে তারা চালের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে আবার বলা হচ্ছে, বাজারের সংকটের জন্য রপ্তানিকে দায়ী করা ঠিক নয়। বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইশাকুল হোসাইন জানিয়েছেন, গত এক মাসে প্রায় ২ হাজার টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। তাদের হিসাবে দেশে বছরে অন্তত ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উত্পাদিত হয়, যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। অর্থাত্ উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৬ লাখ টন। তাদের যুক্তি, উদ্বৃত্তের সামান্য অংশ রপ্তানি হলে দেশের বাজারে সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়।
রপ্তানির অনুমোদন কি দায়ী?
চলতি অর্থবছরে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; যা গত অর্থবছরে ছিল ২৩ হাজার ৯৫৯ টন। অর্থাত্, বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে পোলাওর চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, রপ্তানির অনুমোদনের পর দেশীয় বাজারে চালের দাম দ্রুত বেড়েছে। রাজধানীর তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের সাদ্দাম জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার প্রচুর পরিমাণে পোলাওর চাল রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই দাম অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, পোলাওর চালের দাম বাড়ায় ভালো মানের নাজির ও কাটারিভোগ চালের দামও বেড়েছে বলে তিনি জানান।
নাকি কৃত্রিম সংকট?
এদিকে বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও মিলগুলো উত্পাদন মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ ধান কিনে মজুত করেছে। পরে সেই ধানের দাম বৃদ্ধিকে কারণ দেখিয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাবেক সচিব ও বর্তমানে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে বছরে ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ টন সুগন্ধি চাল উত্পাদিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর কয়েক লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকে। তাই রপ্তানির কারণে বাজারে এমন সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও জ্বালানিসংকটের যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, সেটিও অযৌক্তিক। যদি জ্বালানি ও পরিবহনের জন্য দাম বাড়ত, তাহলে অন্যান্য চালেরও দাম বাড়ার কথা।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। কালের কণ্ঠের খবর। এতে বলা হয়, দেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় এতে কম খরচ হয়। অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সংকটে ক্যাপটিভ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এবং ডিজেলচালিত জেনারেটরের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) এখন শিল্প খাতে আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দিনে শিল্প-কারখানার বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর বড় অংশ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে। পাশাপাশি নতুন করে শত শত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্রিডের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম যেখানে প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৫৬ পয়সা, সেখানে ক্যাপেক্স মডেলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের খরচ চার থেকে সাড়ে চার টাকা এবং অপেক্স মডেলে সাত থেকে আট টাকা। ফলে ক্যাপেক্সে প্রতি ইউনিটে সাত টাকার বেশি এবং অপেক্সে তিন থেকে সাড়ে চার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসসংকটে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এবং ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্পে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব আরো বাড়ছে।
আগামীর সময়ের শিরোনাম - হজযাত্রী কমছে, বাড়ছে ওমরাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী আমলের শেষ সময়ে হজযাত্রীদের উড়োজাহাজ ভাড়া ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। তখন মোট খরচ ছিল সাড়ে ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করায় কিছুটা হালকা হয় ব্যয়ের বোঝা। বিএনপি সরকার আরও ৩৫ হাজার হ্রাস করে সেই ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজারে নামালেও মিলছে না কোটা অনুযায়ী হজযাত্রী। অন্যদিকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় করা যায় ওমরাহ। বিশেষ প্যাকেজ নিলেও সেই খরচ ছাড়ায় না ৩ লাখ। এ কারণে বাড়ছে ওমরাহযাত্রী।
সৌদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে এবারের হজের প্রাক-নিবন্ধন। সেই হিসাবে সময় আছে ২০ দিন। অথচ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রাক-নিবন্ধন করেছেন ৬৬ হাজার ৭১২ জন। আর চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৯১০ হজে গমনেচ্ছুক ব্যক্তি।
প্রতি বছর সৌদি আরব থেকে সাধারণত ১ লাখ ২৭ হাজার জনের হজ কোটা পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। তবে শেষ তিন বছরে এ সংখ্যার চেয়ে হজে গিয়েছেন অনেক কম যাত্রী। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৮ হাজার ৫০০। এবার হজযাত্রী আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা খাতসংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে বাড়ছে ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা। ছয় বছর আগে যেখানে বছরে গড়ে ৫০ হাজার মানুষ ওমরাহ করতে যেতেন, এখন সে সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা মত দিয়েছেন ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হজের খরচ বেশি হওয়ায় যাত্রী কমছে। অন্যদিকে খরচ কম হওয়ায় বাড়ছে ওমরাহযাত্রী। তবে ওমরাহ কখনো হজের বিকল্প নয়। ইসলামি আইন অনুযায়ী, হজ ফরজ আর ওমরাহ নফল। হজের বদলে ওমরাহ করলে ফরজ আদায় হবে না।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী আগামীর সময়কে বললেন, ‘যাদের ওপর হজ ফরজ হয়েছে তাদের আগে হজ করতে হবে। ফরজ আদায় করার পর তারা ইচ্ছা করলে ওমরাহ করতে পারেন। কিন্তু হজের বদলে ওমরাহ করলে ফরজ আদায় হবে না।’ তার ভাষ্য, হজ ফরজ আর ওমরাহ নফল। নফল কখনো ফরজের বিকল্প হতে পারে না। তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করেন আল্লাহর ঘর জিয়ারত করলেই হয়ে গেল। এ কারণে ওমরাহযাত্রী দিন দিন বাড়তে পারে আর কমছে হজযাত্রী।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের গতকালের (৩ সেপ্টেম্বর) তথ্য বলছে, সৌদি ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর কেউ হজের প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন না। শুধু প্রাক-নিবন্ধনকারীরা চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারবেন আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে প্রাক-নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৬১৮ এবং বেসরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৬৩ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন ৭৪০ এবং বেসরকারিভাবে ১ হাজার ১৭০ জন, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই কম।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘যদিও এ সংখ্যা স্বাভাবিক নয়, কিন্তু সরকারের কিছুই করার নেই। আমরা নানা মাধ্যমে চেষ্টা করছি। কিন্তু মানুষ ঝুঁকছে ওমরাহর দিকে। আগে বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার মানুষ ওমরাহে যেত। এখন বছরে যাচ্ছে ৫ লাখের ওপর। তবে আমরা আশাবাদী, শেষ মুহূর্তে নিবন্ধনের সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাবে।’
কমছে হজযাত্রী: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্রতি বছর হজযাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন পবিত্র হজ পালন করেন। করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যাননি। ২০২২ সালে সীমিত পরিসরে হজ চালু হলে বাংলাদেশ থেকে ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজ পালন করেন। ২০২৩ সালে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮, ২০২৪ সালে ৮৫ হাজার ২৫৮, ২০২৫ সালে ৮৬ হাজার ৯৮১ এবং গত বছর (২০২৬) এ সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ৫০০ জন।
কমেছে হজের খরচ: অন্যদিকে আওয়ামী আমলের সর্বশেষ হজে (২০২৪) বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে হজে বিমান ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২০ টাকা করে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালে তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ এবং এবার আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ গত চার বছরে বিমান ভাড়া কমেছে ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা। ২০২৪ সালে সবচেয়ে কমমূল্যে সরকারি প্যাকেজ ছিল ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। এর বাইরেও কোরবানির জন্য ৭৫০ রিয়াল (অন্তত ২৫ হাজার টাকা) ছিল। এবারের সরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজমূল্য কোরবানিসহ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। অর্থাৎ ৭৩ হাজার ১৯২ টাকা কম। আর কোরবানির টাকা ধরা হলে অন্তত ১ লাখ কম হবে।
ওমরাহ বাড়ছে: সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের (জিএএসটিএটি) প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন ১ কোটি ৫২ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে বিদেশি ওমরাহকারীর সংখ্যাই প্রায় ৫৮ লাখ। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ছয় বছর আগেও যেখানে প্রতি বছর ৫০ হাজার লোক ওমরাহ পালন করতে সৌদি যেতেন, সেখানে সংখ্যাটি বেড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

দেশ রূপান্তরের শিরোনাম - দাম বাড়ানোর পরও তেলের সংকট। এতে বলা হয়, বরাবরের মতোই সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য সপ্তাহখানেকের বেশি খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সরকার বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও বাজারে এই সরবরাহ সংকট কাটেনি। এখনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে। এই সুযোগে দোকানিকে আবার পুরনো দামের তেলই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভোজ্যতেল সরবরাহকারীদের সঙ্গে সভা করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেন। যদিও ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন লিটারে ১০ টাকা। এরপর বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান গণমাধ্যমকে জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।’

কিন্তু সেদিনই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক লিটারের বোতলজাত তেলের দাম ৫ টাকা, ৫ লিটারের বোতলের দাম ২৫ টাকা এবং এক লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সরবরাহকারীরা খোলা সয়াবিন তেলের দামও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি বাড়ছে। সমকালের একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, মোটা অংকের অর্থের চুক্তিতে সরকারি চাকরির পরীক্ষা একজনের হয়ে দিয়ে দিচ্ছে অন্যজন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় ঘটছে এমন জালিয়াতি। পরীক্ষায় জালিয়াতির নতুন নতুন কৌশল ধরা পড়লেও তা থামছে না। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক– তিন ধাপেই প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কেউ ধরা পড়ছে মৌখিক পরীক্ষায়, কেউ নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদান করতে গিয়ে। সিসিটিভি ফুটেজ, হাতের লেখা ও চেহারা মিলিয়ে দেখার পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী (অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী) আটক হয়েছে। নিয়োগপত্র পেয়ে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়েও ধরা পড়েছে মূল আবেদনকারী। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার পিএসসির সচিবালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগ দিতে গিয়ে ধরা পড়েন মো. রিপন হোসেন নামে এক প্রার্থী। পিএসসি জানিয়েছে, লিখিত ও মৌখিক; কোনো পরীক্ষাতেই তিনি নিজে অংশ নেননি। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে ছয়জন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগে চারজন এবং কর অঞ্চল-নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রক্সি দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তারসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব জালিয়াতিতে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। অর্থের বিনিময়ে দক্ষ প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিচয় যাচাইয়ের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া; সব মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হচ্ছে। শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়িয়ে এ অপরাধ বন্ধ করা কঠিন।