মোদি সরকারের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নিয়ে নানা মহলে সন্দেহ প্রকাশ

মোদি সরকারের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নিয়ে নানা মহলে সন্দেহ প্রকাশ

ফন্ট সাইজ:

মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেই ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে দাবি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন, অর্থাৎ প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। কেন্দ্র এই পরিসংখ্যানকে অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেও এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে।

এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এবং প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। তাদের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অর্থনীতিবিদও নতুন জিডিপি হিসাবের পদ্ধতি ও পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যরা সর্বশেষ এই হিসাবের পেছনের সংশোধিত পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন এবং এই সংখ্যাগুলো নিয়ে প্রধান উদ্বেগগুলো নিরসনে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করেছে।

বিরোধী কংগ্রেস দল নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক তথ্যে “বিকৃতি” ঘটানোর অভিযোগ করেছে ।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। টেলিভিশন চ্যানেলে বক্তব্যের পাশাপাশি ‘দ্য কুইন্ট’-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি দাবি করেছেন, সরকারের ঘোষিত ৭.৮ শতাংশের পরিবর্তে এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতির প্রকৃত প্রবৃদ্ধি অনেক কম-প্রায় ২.৬ শতাংশ।

গার্গের যুক্তির ভিত্তি হল নামমাত্র বা বর্তমান মূল্যের জিডিপির পরিবর্তন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী,পূর্ববর্তী সিরিজ অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে বর্তমান মূল্যে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা, যেখানে ২০২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে তা ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি রুপি- অর্থাৎ মাত্র ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি। গার্গের বক্তব্য, এই হিসাবের সঙ্গে ২ থেকে ২.৫ শতাংশের মতো মুদ্রাস্ফীতি বা জিডিপি ডিফ্লেটরের প্রভাব বিবেচনায় নিলে প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কার্যত অদৃশ্য হয়ে যাবে। । একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতের জিডিপি পরিসংখ্যান সংশোধনের ফলেই কি বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে?

গার্গের বক্তব্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। গত বছরের জিডিপি পরিসংখ্যান সংশোধনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে যে, এই পরিবর্তনের ফলেই সর্বশেষ প্রবৃদ্ধির হারকে আরও শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা দাবি বলেছেন , সুভাষচন্দ্র গার্গ সরকারের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। তিনি বলেছেন, গর্গের যুক্তিটি আরও মারাত্মক। গত বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার কমিয়ে দেখানো হয়েছিল, যার ফলে তুলনামূলকভাবে এ বছরের প্রবৃদ্ধির হারকে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

তার এই মূল্যায়ন ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতার পতন, ব্যয়যোগ্য আয় ও সঞ্চয়ের সংকোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগের স্থবিরতা এবং ক্রমবর্ধমান পারিবারিক ঋণের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ ভারতীয়দের বাস্তব জীবনের অনেক কাছাকাছি বলে মনে হয়েছে।

কংগ্রেস দাবি করেছে, এই দাবিগুলোকে সহজে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই দাবি এমন একজনের কাছ থেকে এসেছে যিনি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মোদির অধীনে ভারত সরকারের অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।