ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন মন্তব্য করার পর পাল্টা জবাবে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, ওয়াশিংটন শিগগিরই যুদ্ধের ক্ষেত্রে তেহরানের ‘নতুন কৌশল’ দেখতে পাবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ খুব বেশি দিন চলবে না। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো হামলায় এরই মধ্যে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৪৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেয়া যাবে না। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ওই হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বেসামরিক লোকজনও ছিলেন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রস হ্যারিসন মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রভাব মূল্যায়ন করে বলেছেন, হামলায় ইরানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলেও ওয়াশিংটনের বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। হ্যারিসন ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার দৃঢ়তা, সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তেহরানের প্রচেষ্টা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন। ওদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক গণমাধ্যম কেন্দ্র জানিয়েছে, হুতিরা তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এরপর হুতি হামলা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম কেন্দ্র। তারা জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় প্রদেশ তাইজ ও হোদেইদার জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে হুতিরা ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তা গণমাধ্যম কেন্দ্রকে জানিয়েছেন, তাইজ অক্ষের ওপর কয়েকটি ড্রোন এবং পশ্চিম উপকূলের ওপর আরও কয়েকটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম উপকূলে মোতায়েন সেনাদের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি সেনাদের উচ্চমাত্রার যুদ্ধপ্রস্তুতি ও মনোবলের প্রশংসা করেন। গণমাধ্যম কেন্দ্রটি জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী তাইজের পশ্চিমে আল-কুধাহ এলাকায় হুমকির উৎস ও শত্রুপক্ষের গোলাবর্ষণও নিষ্ক্রিয় করেছে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের রস হ্যারিসন বলেন, বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে অন্যান্য দেশগুলোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদে হরমুজ প্রণালি ইরানকে এখনো কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিচ্ছে। হ্যারিসন আল জাজিরাকে বলেন, এ মুহূর্তে ইরানের শাসকগোষ্ঠী টিকে থাকা এবং স্বল্পমেয়াদ নিয়ে মনোযোগী।
তাই স্বল্পমেয়াদে তাদের হাতে এখনো সেই প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং এমন পর্যাপ্ত ক্ষতি করা, যাতে পাঁচ মাস পর, ছয় মাস পর কিংবা এক বছর পর আবার কোনো সংঘাত শুরু না হয়।
হ্যারিসন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা, আরও সংঘাত বাড়ানো কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হ্যারিসন বলেন, এ মুহূর্তে যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও, আমরা যতটা দেখতে পাচ্ছি, শাসকগোষ্ঠী আশ্চর্যজনকভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
