বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বুধবার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রহমতপুর এলাকায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নবনির্মিত ‘রহমতপুর বিওপি’ শুভ উদ্বোধন করেন।
বিওপি উদ্বোধনকালে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ এলাকায় বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। নতুন এই বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিওপি উদ্বোধন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের আওতাধীন সকল সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল বিজিবি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বিজিবি মহাপরিচালক জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ বগাপাড়া বিওপি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের অধীনস্থ রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের দায়িত্ব ও সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি গুইমারা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহের অধিনায়ক এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
