কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প

ফন্ট সাইজ:

দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
বুধবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবি’র প্রতিনিধিদলের এক পরামর্শ সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এডিবি ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এঙ্মি ব্যাংক/ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএঙ্মি/ইডিসিএফ) ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটি ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা দেয়া হবে। কৃষি উচ্চশিক্ষাকে কর্মবাজার ও শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাঠক্রম ও একাডেমিক কাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিক্ষক ও গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে প্রকল্পে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল কৃষি খাত ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারিত্ব এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় এডিবি’র সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প-উদ্ভাবন সংযোগ জোরদারের কথাও জানান তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ ইউজিসি, এডিবি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।