সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ার উদ্যোগ

ফন্ট সাইজ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তের জন্য সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিক কার্যরত রয়েছে। এ কমিটির দিকনির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফরম মনিটর করে থাকে।
অপতথ্য ও গুজব দ্রুত শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসংবলিত সরকারি ‘ফ্যাক্টচেক’ বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি তথ্য অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলোর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলেও জানানো হয়।

লিখিত জবাবে আরও জানানো হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিআইবি’র ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৩০৬টি করা হয়েছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর।
এ ছাড়া, পিআইবি’র প্রশিক্ষণ বিভাগ ১লা অক্টোবর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০টি প্রশিক্ষণে মোট ৭৩৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ে ১৪টি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এসব প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। গত দুই বছরে পিআইবি আয়োজিত প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জবাব
সরকারবিরোধী বা মন্ত্রীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরিয়ে নেয়া এবং সাইবার হামলার অভিযোগ তুলে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘গলা চিপে ধরছে’ কি না- জানতে চেয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। এমন অভিযোগের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে।
হান্নান মাসুদ বলেন, সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, তিনি নির্বাচিত নন এবং ভোটিংয়ে অংশ নেবেন না। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ওই সংবাদ সরিয়ে ফেলা হয়। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে ‘ডেইলি ওয়াদা’ সংবাদ প্রকাশ করলে সেই সংবাদও সরিয়ে নিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ান-এ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই চ্যানেলের প্রতিবেদনে সাইবার হামলা হয়। ফলে অনেকদিন প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি।
হান্নান মাসুদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বা সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো নিউজ করলে এই যে সাইবার অ্যাটাক এবং প্রতিবেদন সরিয়ে নেয়ার নিউজগুলো আমরা দেখতে পাই, এতে করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- সরকার কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা চিপে ধরছে?
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে।