প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের বাইরে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন তাওহিদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের চতুর্থ দিনে গতকাল ৩০০ রান করেন তিনি। ৪৫০ বল খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছান হৃদয়। দেশের মাটিতে ৩০০ রান করার রেকর্ড আছে দুই ব্যাটসম্যানের। জাতীয় লীগে বরিশালের হয়ে ফতুল্লায় ৩১৩ রান করেন রকিবুল হাসান। মিরপুরে বিসিএলের ম্যাচে ৩৩৪ রান করেন তামিম ইকবাল। এর আগে বিদেশের মাটিতে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটির বিপক্ষে করাচিতে ২১৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার হোসেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে গতকাল ২০৪ রান নিয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটার হৃদয়। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন আউট হন ৮৭ রানে। এরপর উইকেটে ব্যাটিংয়ে আসেন নাঈম হাসান। নাঈম ১৬ রান করে স্টাম্পড হন। উইকেটে এসে হাসান মুরাদ করেন ১১ রান। কাইল সিমন্ডসের বলে বোল্ড হন মুরাদ। দলের রান তখন আট উইকেটে ৫১৯। সেখান থেকে রেজাউর রহমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হৃদয়। হৃদয় পার হন নিজের ২১৭ রান। সিমন্ডসের বলে এক রান নিয়ে ৩৮১ বলে ২৫০ স্পর্শ করেন তিনি। ২৭৪ রান তুলে মধ্যাহ্নবিরতিতে যান হৃদয়। মধ্যাহ্নবিরতির পরও রান তুলতে থাকেন হৃদয়। বিপক্ষ দলের বোলাররা হৃদয় ও রেজাউরকে বিপদে ফেলতে পারেননি। রেজাউরের ব্যাটের কানায় লেগে বল পড়ে স্লিপ ফিল্ডারের সামনে। বাউন্সার সামলাতে গিয়ে বল যায় শর্ট লেগ ফিল্ডারের কাছে। হাল না ছেড়ে উইকেটে টিকে থাকেন রেজাউর। তিনি এক প্রান্ত আগলে রাখেন। স্ট্রাইক পেয়ে হৃদয় এক রান নিয়ে রান যোগ করতে থাকেন। এতে দলের রান বাড়তে থাকে। তবে হৃদয়ের ২৯৪ রানে বল তাঁর ব্যাট ফাঁকি দেয় কিপারের গ্লাভসে জমা পড়ে। প্রোটিয়ারা কট বিহাইন্ডের আবেদন করে। ব্যাট পিচে লাগায় আম্পায়ার আউট দেননি। এরপর পেসার ম্যাথু বোস্টের বল মিড অনে ঠেলে দেন তিনি। দৌড়ে দুই রান নেন হৃদয়। এর মাধ্যমে তিনি পৌঁছে যান ৩০০ রানে। দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান এই ব্যাটসম্যান।
৩০০ রান করার পর হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে দুটি ছক্কা। বল সীমানার ওপর দিয়ে আছড়ে ফেলেন তিনি। দিনের তৃতীয় সেশনে ৩৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। দলের সংগ্রহ তখন আট উইকেটে ৬৫২ রান। উইকেটে হৃদয়ের সঙ্গে ছিলেন রেজাউর রহমান। অষ্টম উইকেট জুটিতে রেজাউর ও হৃদয় যোগ করেন ১৩৩ রান।
