এবারো কর্মকর্তাদের আধিক্য বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টে

এশিয়ান গেমস ২০২৬

এবারো কর্মকর্তাদের আধিক্য বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টে

ফন্ট সাইজ:

আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, হকি, কাবাডি, কারাতে, টেবিল টেনিস, সাঁতার, সার্ফিং, শুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও বিচ ভলিবল— তালিকা বেশ লম্বা। তালিকা লম্বা হলেও এক প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই এশিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চে যাচ্ছে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরা। তবে আরচারি, হকি, ফুটবল, বক্সিসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিন নিয়মিত অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে, আবার কিছু ডিসিপ্লিন শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতির অসম চিত্রের পেছনে অর্থের সংকট বড় কারণ। এই সংকটের মাঝেও প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা কোন প্রকার ভূমিকা ছাড়াই জাপান যাচ্ছেন। এদের মধ্যে ৪-৫ জন আছেন। ফেডারেশনগুলোর আগের কমিটির। ২৯০ সদস্যের জাপানগামী বহরের সরকারি আদেশের (জিও) তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকজন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে কোচ পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কারও কারও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হকি পুরুষ দলের কোচ হিসেবে তালিকায় নাম এসেছে হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান ডনের। যদিও হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রিন্স দাবি করেছেন, ভুলবশত তাকে কোচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যাবেন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। একজন ম্যানেজারের পর সহকারী ম্যানেজার হিসেবে তার যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিতর্কটি শুধু তাকে ঘিরে নয়; জিও তালিকায় ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল, জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী ও উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, সাবেক রাইফেল শুটার ও শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্না কোচ হিসেবে জাপান ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলমও যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে। অথচ দলকে দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করাচ্ছেন মোহাম্মদ আলী।

মোহসিনুল আলমের মতো, দিলু শাকিল, নয়না চৌধুরী, রত্না কেউই কোচ হিসেবে দলকে কোচিং করাচ্ছেন না। জাপানগামী বহরে কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) ১৫ জন অফিশিয়ালকে এনওসি ডেলিগেট করা হয়েছে। এর বাইরে সরকার সম্প্রতি ২৭টি ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি করায় শেষ মুহূর্তে বহরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ২৬ জন। তাদের ২৫ জনই কর্মকর্তা, খেলোয়াড় একজন— হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি। নতুন কর্মকর্তাদের জায়গা করে দিতে অনেক কোচের নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানে সারা বছর দলকে ট্রেনিং করানো কোচদের দেশে রেখে তাদের যায়গায় লন্ডন ভ্রমণে গিয়েছিলেন ফেডারেশন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক বার বার সর্তকও করেছিলেন ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। সবশেষ এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ফেডারেশন কর্মকর্তাদের নিয়েও সভায় বসে নাম ধরে এদের ভর্ৎসনা করেছিলেন আমিনুল হক। তারপরেও এদের জাপান ভ্রমণ রুখতে পারছেন না। এ নিয়ে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘যারা কোচদের বাদ দিয়ে গেমসে যাচ্ছে। তাদের আমি চিহ্নিত করতে বলেছি। এবার শেষ মুহূর্তে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, তখন আর করার কিছু ছিল না। তবে আমি আবারো সতর্ক করে বলছি, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেউ ঘটান তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।’