চার দিনের জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ৩রা অক্টোবর। লাল বলের এই জমজমাট টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ে নামছে আটটি বিভাগ। অভিজ্ঞ ও সাবেক তারকাদের নিয়ে এবার কোচিং প্যানেল চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তালিকায় বড় চমক সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। জাতীয় লীগে প্রথমবারের মতো প্রধান কোচের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ডাগআউটে নামছেন তিনি। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে। খেলোয়াড়ি জীবন থামার পর থেকেই কোচিং পেশায় আসার গভীর ইচ্ছা ছিল তার। মাঝে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নির্বাচকের ভূমিকা পেরিয়ে হুট করেই তিনি বসেছিলেন বিসিবির পরিচালকের নীতিনির্ধারণী চেয়ারে। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের সেই শীর্ষ পর্যায় থেকে তার বিদায় পর্বটি মোটেও সুখকর ছিল না। পরিচালক হওয়া কি তবে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? সেই অধ্যায় নিয়ে কোনো আক্ষেপ জমে আছে, নাকি এটি তার জীবনের এক বড় শিক্ষা? বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের জমানায় আবারও মাঠের চেনা আঙিনায় ফেরা নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের মুখোমুখি হয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রাজ্জাক। তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: বিসিবির পরিচালক পদ ছেড়ে কোচের ভূমিকায়— এই রূপান্তরকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
রাজ্জাক: অনেক আগে থেকেই কোচিং পেশায় আসার পরিকল্পনা আমার ছিল। সেই লক্ষ্যেই কোচিংয়ের প্রয়োজনীয় কোর্সগুলো সম্পন্ন করেছি। একেক সময়ের দায়িত্ব একেক রকম হয়ে থাকে। পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি, তার আগে নির্বাচক ছিলাম। যখন যে দায়িত্বে ছিলাম, সততার সঙ্গে তা পালনের চেষ্টা করেছি। এখন কোচের ভূমিকায় নিজের পরিকল্পনা ও দায়িত্বগুলো শতভাগ পালন করতে চাই।
প্রশ্ন: বিসিবি পরিচালক হওয়া কি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, কোনো আক্ষেপ আছে কি?
রাজ্জাক: আমি মোটেও তা মনে করি না। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকলেও সেখানে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল বলে আমি মনে করি না। অনেকে ভিন্ন মত পোষণ করতেই পারেন, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ চূড়ান্তভাবে আমাকে মাঠের কোচিংয়েই ফিরতে হতো।
প্রশ্ন: পরিচালকের দায়িত্বটা কি তবে সেভাবে উপভোগ করতে পারেননি?
রাজ্জাক: বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। পরিচালকের পদটি কোনো পেশা নয়, এটি মূলত একটি সম্মানজনক দায়িত্ব। আর কোচিং হলো আমার মূল পেশা। অনেক আগে থেকেই কোচিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছা আমার ছিল। এমনকি নির্বাচক প্যানেলে থাকার সময়ও আমি কাজটি দারুণ উপভোগ করেছি, তবে মাঠের কাজটাই আমার কাছে বেশি প্রাধান্য পায়।
ক্রিকেটারদের সবাই আমার চেনা-জানা। আমার চেষ্টা থাকবে খেলোয়াড়রা যেন আমার অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে এবং আমার পরিকল্পনাগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।
প্রশ্ন: বোর্ডে ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততা কীভাবে দেখছেন? তামিম ইকবালের সঙ্গে কোনো দূরত্ব আছে কি?
রাজ্জাক: কারও সঙ্গেই আমার কোনো দূরত্ব নেই। আর ক্রিকেটের দায়িত্বে ক্রিকেটাররা আসবে— এর চেয়ে ইতিবাচক আর কী হতে পারে! ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যখন ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকেন, তখন ভুলের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
প্রশ্ন: মাঠের ক্রিকেটে নিজের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকায় এসে কতটা আত্মতৃপ্তি কাজ করছে?
রাজ্জাক: অবশ্যই, মাঠে ফিরে কাজ করতে পারা দারুণ আত্মতৃপ্তির। খেলোয়াড়ি জীবনে আমরা অনেক বিষয় অনেক দেরিতে শিখেছি। আমাদের সময়ে বিশেষজ্ঞ স্পিন কোচ বা পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না; অনেক কিছু ঠেকে ঠেকে শিখতে হয়েছে। আমি চাই বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম যেন শুরু থেকেই সঠিক দিকনির্দেশনা পায়। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ হবে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসসহ সাবেক ক্রিকেটাররা এখন এগিয়ে আসছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলাকে আরও মসৃণ করবে।
প্রশ্ন: তামিম ইকবালের বোর্ড মূল্যায়ন এবং পরিচালক হিসেবে আপনার শিক্ষা কী?
রাজ্জাক: আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, ক্রিকেটের মানুষ ক্রিকেটে থাকলে এই খেলার সবচেয়ে বেশি উন্নতি নিশ্চিত হবে। এখনও আমার ভাবনা একই। কাজের ধরন বা পরিকল্পনা একেকজনের একেক রকম হতে পারে, তবে সবার মূল লক্ষ্য একটাই— বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অগ্রগতি এবং দেশের ক্রিকেটের কাঠামোগত উন্নয়ন। আর পরিচালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি নীতি নির্ধারণ, সঠিক সময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছি। প্রত্যেকের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি থাকতে পারে, তবে দিনশেষে সবার উদ্দেশ্য ক্রিকেটের সার্বিক সাফল্য নিশ্চিত করা।
