‘আগে নিজেকে প্রমাণ করুক’

কিউবা প্রসঙ্গে ডুলি

‘আগে নিজেকে প্রমাণ করুক’

ফন্ট সাইজ:

ফিফা এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে চলছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রস্তুতি। লোক চক্ষুর অন্তরালে জার্মান কোচ টমাস ডুলির অধীনে ২৮ ফুটবলারকে নিয়ে চলছে অনুশীলন। সবার শেষে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা। এবার দলে পুরোনোদের সঙ্গে নতুন করে আসা বিদেশে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদেরও পরখ করে দেখছেন বাংলাদেশের কোচ। সেই নতুনদের একজন সাইফ কেরাওয়ালা। ডুলির এই ক্যাম্পে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কিউবা মিচেল। ঢাকায় আসতে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন তিনি। বাফুফে তাকে নিজ খরচে ট্রায়ালে আসতে বলেছিল। এ নিয়েই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বির্তক।
নিজ খরচে কিউবাকে ট্রায়াল দিতে বলা নিয়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, এবার তার কড়া ও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ টমাস ডুলি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে মাত্র কয়েক মিনিট খেলা এবং ইংল্যান্ডের সপ্তম বা অষ্টম স্তরের অপেশাদার লীগে খেলা কোনো ফুটবলারকে ট্রায়াল ছাড়া সরাসরি দলে নেয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য ফেডারেশনের নেই। তবে নিজ খরচে দেশে এসে ট্রায়ালে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে ফেডারেশন সেই খরচ বহন করবে বলেও নিশ্চিত করেছেন এই মার্কিন কোচ। সম্প্রতি কিউবা মিচেলকে আসিয়ান কাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে না রাখা এবং নিজ খরচে ট্রায়ালের শর্ত দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কোচ ডুলি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘সে সপ্তম বা অষ্টম স্তরের লীগে খেলে। সেটা তো কোনো পেশাদার লীগ নয়। কিউবার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, তার ওপর আমার কোনো ক্ষোভও নেই। আমি চাই সে এখানে আসুক এবং তার কী সামর্থ্য আছে, তা দেখাক।’ হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে কোচ আরও বলেন, ‘একেকজনের পেছনে ২ হাজার ডলার খরচ হয়। এমন পাঁচজন খেলোয়াড় হলে ১০ হাজার ডলার খরচ পড়ে যায়। সবাইকে ডেকে এনে খেলানোর জন্য নিজের খরচে টিকিট কেটে দেয়ার মতো টাকা আমাদের নেই।’ তবে কিউবার জন্য জাতীয় দলের দরজা যে একেবারেই বন্ধ নয়, সেটিও জানিয়েছেন ডুলি। শর্ত পূরণ করলে টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে যদি মনে করে, সে এই দলের অংশ হতে পারে এবং আমাদের হয়ে খেলতে পারে, আমি তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, তার সঙ্গে কথাও বলেছি। আমি বলেছি, ‘তুমি এখানে এসো, আমাদের সঙ্গে কয়েকদিন ট্রেনিং করো, তোমার কী ক্ষমতা আছে দেখাও। তুমি যদি আমাদের বর্তমান খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো হয়ে থাকো, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে নেব।’ সেটা হলে ফেডারেশনই তোমার টিকিটের ব্যবস্থা করবে।’ এদিকে হঠাৎ করে ডুলির ক্যাম্পে যোগ দেয়া ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার সাইফ কয়েক দিন ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। ২৯ বছর বয়সী সাইফের বাবা বাংলাদেশি, মা আমেরিকান।

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষক এখন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্নে ঘাম ঝরাচ্ছেন। জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে অনুশীলনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন ফুটবলারদের ট্রায়াল প্রসঙ্গে টমাস ডুলি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পারফরম্যান্সই হবে দলে জায়গা পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি। বাংলাদেশের জার্মান কোচ বলেন, ‘ট্রায়ালে যারা ভালো করবে, তাদের দলে নেয়া হবে। পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে কোনো এজেন্ট বা অন্য কে কী বললো, সেটি দেখার বিষয় নয়। সাইফ এসেছে। আরও কয়েকজনের আসার কথা রয়েছে।’